সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

স্বীকৃতির কূটনৈতিক ঝড়ে সংকটে পরবে ইসরাইল?

Reporter Name / ৪৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

।।অনলাইন ডেস্ক।।

বিশ্ব কূটনীতির মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ। এতদিন ইসরাইলের নিরঙ্কুশ সমর্থক হিসেবে পরিচিত পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলোর একটি অংশ—যেমন ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া—এখন সরাসরি প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে এই হঠাৎ পরিবর্তন শুধু ইসরাইলকেই অস্বস্তিতে ফেলেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকেই ইসরাইলের সামরিক অভিযানে হাজারো সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এবং একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই অভিযানকে “গণহত্যা” বলে আখ্যা দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভ্যন্তরেও সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও অভিবাসী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এই চাপ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নীতিগত অবস্থান পাল্টাতে বাধ্য করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের অঘোষিত এককেন্দ্রিক ইসরাইলমুখী নীতি মিত্র দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে না। বরং অনেক ইউরোপীয় নেতা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের একতরফা অবস্থান তাদের আঞ্চলিক কূটনীতিকে সংকটে ফেলছে। তাই তারা নিজেদের পথ আলাদা করে নিতে চাইছেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী মুসলিম জনগোষ্ঠী ক্রমেই শক্তিশালী ভোটব্যাংকে পরিণত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী স্বার্থেই প্যালেস্টাইন ইস্যুতে নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে। পাশাপাশি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নও বড় ভূমিকা রাখছে।

রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিকল্প জ্বালানির খোঁজে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ঝুঁকতে হয়েছে। এই কূটনৈতিক বাস্তবতায় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা পশ্চিমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দেওয়া তাই শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ হলো ভবিষ্যতে পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে প্যালেস্টাইনের দূতাবাস খোলার পথ সুগম হওয়া। এতে আন্তর্জাতিক ফোরামে প্যালেস্টাইনের কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে, ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থান সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর