বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

ঢাকার মগবাজার:নামের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস ও সুরক্ষিত মগবাজার গড়তে করণীয়

।।মুমিনুল ইসলাম রাজা।। / ২৮৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মগবাজারের জনসংখ্যা আনুমানিক ৮ লাখেরও বেশি লোক বসবাস করে।

মগবাজারে বিভিন্ন ধরনের খাবারের বিকল্প এবং বিনোদনের জায়গা রয়েছে, যেখানে বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের বিশ্রাম, খাওয়া এবং উপভোগ করার জন্য একই রকম জায়গা রয়েছে৷

মগবাজারে বসবাসকারী লোকেরা তাদের শক্তিশালী সম্প্রদায়ের জন্য গর্বিত৷ স্পিরিট, যা আশেপাশের এলাকাকে একটি প্রাণবন্ত এবং সহায়ক জায়গা হতে সাহায্য করে।

মগবাজারের প্রধান অবস্থান, মগবাজার ফ্লাইওভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার দ্বারা ছেদ করা, এটির সংযোগ বাড়ায়, এটি ঢাকার মধ্যে একটি অ্যাক্সেসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করে।

এছাড়া মগবাজার মিন্টু রোডের মতো প্রধান আবাসিক এলাকার সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পান্থপথ এর সাথে রয়েছে এর সংযোগ।

মগবাজার নামটি কেবল একটি ভৌগোলিক নাম নয়-এটি ঢাকার ইতিহাসে দস্যুতা, প্রতিরোধ ও বসতির কাহিনি।
নাম পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু ইতিহাসকে কখনো মুছে ফেলা যায় না। তাই “মগবাজার” নামটি আজও বহন করে চলেছে ঢাকার অতীতের রোমাঞ্চকর ও রক্তাক্ত স্মৃতি।

ঢাকার আজকের ব্যস্ততম জনপদগুলোর একটি মগবাজার। প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষ ফ্লাইওভার পেরিয়ে বা বাজারঘেঁষা রাস্তায় চলাচল করে, কিন্তু ক’জন জানে—এই নামের পেছনে লুকিয়ে আছে দস্যুতা, রক্তক্ষয় আর উপকূলীয় আতঙ্কের গল্প?

মগ কারা ছিল?

১৭শ শতকের আরাকান রাজ্যের (বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল) সমুদ্রযোদ্ধা ও জলদস্যুদের বলা হতো “মগ”।
তাদের প্রধান কাজ ছিল নদীপথে হানা দিয়ে গ্রাম দখল, মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়া এবং লুণ্ঠন। নারীরা ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য—কারণ তারা নারী ও শিশুদের ধরে নিয়ে দাস হিসেবে বিক্রি করতো।
তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল পর্তুগিজ জলদস্যুরা। ফলে বাংলার উপকূল থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত এলাকা হয়ে ওঠে এক ভয়ঙ্কর শিকারক্ষেত্র।

মগদের ঢাকায় প্রবেশ

১৬২০–১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে মগ-পর্তুগিজ জলদস্যুরা ঢাকা অঞ্চলে বারবার হামলা চালায়। তারা নারায়ণগঞ্জ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা নদীপথ ধরে রাজধানীর কাছে পৌঁছাতো। ধান, গবাদিপশু, সোনা-রূপা লুট করতো। শিশু ও নারীদের ধরে নিয়ে যেত দাস হিসেবে বিক্রি করতে। ঢাকার মানুষ তাদের আতঙ্কে দিন কাটাত।

মুঘল প্রতিরক্ষা ও দমন

মুঘল সুবেদার ইসলাম খান (১৬০৮–১৬১৩ খ্রি.) প্রথম ঢাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
তিনি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার তীরে বানান হাজীগঞ্জ দুর্গ, ইদ্রাকপুর কেল্লা ও সোনাকান্দা দুর্গ। এগুলো ছিল মগদের নদীপথের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর কৌশল।

পরে সুবেদার শায়েস্তা খান (১৬৬৪–১৬৮৮ খ্রি.) কঠোর ব্যবস্থা নেন।
তিনি বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনী তৈরি করে মগ ও পর্তুগিজ দস্যুদের ঘাঁটি ধ্বংস করেন। এর পর থেকেই মগদের শক্তি ভেঙে যায়, আর ঢাকা নিরাপদ হতে শুরু করে।

মগবাজার নামকরণের সূত্র

তবে ইতিহাসের পরিহাস—যারা একসময় ঢাকাবাসীর কাছে ছিল আতঙ্ক, পরবর্তীতে তাদেরই কিছু অংশ আত্মসমর্পণ করে ঢাকায় বসতি স্থাপন করে।
এই বসতিগুলো গড়ে ওঠে শহরের পূর্বাঞ্চলে।
ফলে স্থানটি পরিচিত হয় “মগ-বাজার” নামে—অর্থাৎ মগদের বসতির বাজার।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে পরিবর্তন

ব্রিটিশ আমল (১৮শ–১৯৪৭): মগবাজার ধীরে ধীরে দস্যুদের আঁতুড়ঘর থেকে বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপ নেয়। বাজার ও ছোট ব্যবসা গড়ে ওঠে।

পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭১): মগবাজার হয়ে ওঠে আবাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত ওয়্যারলেস গেট।

বর্তমান মগবাজার

আজ মগবাজার শুধু ঢাকার একটি জনবহুল এলাকা নয়—এটি ইতিহাসের সাক্ষী।
এখানে আছে ফ্লাইওভার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, সংস্কৃতির ছাপ। কিন্তু শত ব্যস্ততার মাঝেও এই নাম মনে করিয়ে দেয়, ঢাকার বুকেও একসময় জলদস্যুদের আতঙ্ক বিরাজ করেছিল।

তবে মগবাজার রেল ক্রসিংসহ বিভিন্ন জায়গায় এখনো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা আমাদেরকে যেন সেই পিছনে নিয়ে যায়! আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর সকল প্রচেষ্টায় বর্তমানে মগবাজার ও তার আশপাশের এলাকা যদিও এখন অনেকটা শান্তিপূর্ণ তবুও শান্তিপূর্ণ অবস্থা ধরে রাখার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে।

যে বিষয়গুলোর দিকে নজর দেয়া জরুরীঃ

★যানজট ব্যবস্থাপনা।

★নগর পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন বিধি।

★পথচারীদের নিরাপত্তা এবং প্রবেশযোগ্যতা।

★দুর্বল বায়ুর গুণমান, শব্দ দূষণ, বর্জ্য সংগ্রহ এবং পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা।

★ পানি জমাট বাঁধা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারিতে রাস্তাঘাটের খানাখন্দ,জীর্ণ শীর্ণ অবস্থা ঠিক করা সম্ভব , পরিবেশের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশ দূষণ রোধ করাও সম্ভব। তবে সবার আগে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস ও সচেতনতা জরুরী।


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর