বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্টে সিডিউলিং, কার্যকর শিক্ষাদানের একটি কৌশলগত উপাদান : ডক্টর জহুরুল ইসলাম

।।আজ সারাদিন ডেস্ক।। / ২৪ Time View
Update : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬

কার্যকর ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সঠিক সিডিউলিং (Scheduling)। সিডিউলিং বলতে শুধু পাঠের সময়সূচি নির্ধারণ নয়; বরং সময়কে এমনভাবে সংগঠিত করা, যাতে শেখার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত থাকে এবং ক্লাসরুমে অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা কমে। Roe, B. D., et al. (1984) তাঁদের Student Teaching and Field Experiences Handbook গ্রন্থের ৫ম অধ্যায়ে সিডিউলিংকে কার্যকর শিক্ষাদান ও শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আজকে এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করবো।

(১) সিডিউলিংয়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফ্লেক্সিবিলিটি (flexibility)। যদিও একটি নির্দিষ্ট রুটিন প্রয়োজন, তবে শিক্ষককে পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সূচিতে নমনীয় হতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ক্লাসে যদি শিক্ষার্থীরা একটি জটিল ধারণা বুঝতে বেশি সময় নেয়, তাহলে পরবর্তী ছোট কার্যক্রম সামান্য সংক্ষিপ্ত করে মূল শেখার অংশে বেশি সময় দেওয়া যেতে পারে। এই নমনীয়তা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়।

(২) দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়ের ইফিশিয়েন্ট প্রয়োগ (efficient use of time)। ক্লাস শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মিনিট পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হলে অফ-টাস্ক আচরণ কমে যায়। যেমন- ক্লাস শুরুতেই স্পষ্ট নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় উপকরণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা এবং ট্রানজিশনের সময় কমানো। গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের দক্ষ ব্যবহার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও অর্জন বাড়ায় (Evertson & Weinstein, 2006)।

(৩) তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফিলার একটিভিটিজ (filler activities)। এগুলো হলো ছোট, অর্থবহ কার্যক্রম যা হঠাৎ অতিরিক্ত সময় সৃষ্টি হলে ব্যবহার করা যায়। ফিলার একটিভিটিজ সময়ের অপচয় রোধ করে এবং শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। নিচে এরূপ কতিপয় উদাহরণ দেওয়া হলোঃ
(ক) Think-pair-share: শিক্ষক একটি দ্রুত প্রশ্ন করবেন, শিক্ষার্থীরা ১ মিনিট ভেবে পাশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং ১/২ জন মতামত শেয়ার করবে। এটি সময় কম থাকলেও কার্যকর।
(খ) One-minute paper: শিক্ষার্থীদের বলা হয়: “আজকের ক্লাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখো” বা “আজকের লেসন নিয়ে একটি প্রশ্ন লেখো।” এতে রিফ্লেকশন ও মূল্যায়ন একসাথে হয়।
(গ) Vocabulary/concept flash: বোর্ডে একটি শব্দ বা ধারণা লিখে শিক্ষার্থীদের বলতে বলা হয়-এর সংজ্ঞা, উদাহরণ বা ব্যবহার। বিশেষ করে ভাষা ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্লাসে উপযোগী।
(ঘ) Exit ticket: ক্লাস শেষের আগে শিক্ষার্থীরা ছোট কাগজে একটি উত্তর লিখে বের হবে যেমন: “আজ আমি যা শিখেছি” বা “যা এখনও পরিষ্কার নয়।” এটি দ্রুত ফিডব্যাক দেয়।
(ঙ) Quick review game: ২/৩টি দ্রুত প্রশ্ন নিয়ে ছোট কুইজ বা হাত তুলে উত্তর দেওয়ার কার্যক্রম। এতে সময়ের সদ্ব্যবহার হয় এবং শিক্ষার্থীরা সক্রিয় থাকে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, পরিকল্পিত কিন্তু নমনীয় সিডিউলিং, সময়ের দক্ষ ব্যবহার এবং উপযুক্ত ফিলার একটিভিটিজ এই তিনটি উপাদান একসাথে কার্যকর ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট ও মানসম্মত শিক্ষাদান নিশ্চিত করে।

References
Evertson, C. M., & Weinstein, C. S. (2006). Handbook of Classroom Management. Lawrence Erlbaum Associates.
Roe, B. D., et al. (1984). Student Teaching and Field Experiences Handbook. A Bell & Howell Company.


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর