বাংলাদেশে ডিভোর্সের পর সন্তানের কাস্টডি কার কাছে থাকে?


বাংলাদেশে বাবা–মায়ের ডিভোর্সের পর সন্তানের কাস্টডি (হেফাজত) নির্ধারণ করা হয় Guardians and Wards Act, 1890 এবং Muslim Family Laws–এর আলোকে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ (Welfare of the Child) অর্থাৎ, যে অভিভাবকের কাছে সন্তান সবচেয়ে নিরাপদ, শিক্ষিত ও সুস্থভাবে বড় হতে পারবে আদালত তাকেই উপযুক্ত মনে করেন।
🔹ছোট বাচ্চা (বিশেষ করে মেয়ে সন্তান)
মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী
➡️ ছোট মেয়ের হেফাজতের প্রথম অধিকার সাধারণত মায়ের।
➡️ আদালত সাধারণত মেয়েকে বালেগ (puberty) হওয়া পর্যন্ত মায়ের কাছেই রাখতে পছন্দ করেন, যদি মা উপযুক্ত ও সক্ষম হন।🔹 বয়স বেশি হলে (১০–১২ বছর বা টিনএজ)
বয়স বাড়ার সাথে সাথে
➡️ সন্তানের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
➡️ কে তার জন্য নিরাপদ, ভালো শিক্ষা, মানসিক স্থিতি সব বিবেচনায় আদালত সিদ্ধান্ত নেন।🔷 বাবা কি কাস্টডি পেতে পারে?
হ্যাঁ, পেতে পারে, যদি প্রমাণ হয় যে:
✔️ মা সন্তানের জন্য নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারছেন না
✔️ মা আর্থিক, মানসিক বা নৈতিকভাবে অযোগ্য
✔️ বাবা সন্তানের জন্য বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ দিতে সক্ষম।তবে মনে রাখতে হবে,
➡️ শুধু ভালো আর্থিক অবস্থা কাস্টডি পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়।
➡️ মূল বিবেচ্য বিষয় সন্তানের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।🔷 Guardianship vs Custody
Guardian (আইনগত অভিভাবক): সাধারণত বাবা
Custody (বাস্তবে সন্তান কার কাছে থাকবে): আদালত যাকে উপযুক্ত মনে করেন মা অথবা বাবা।
অর্থাৎ
➡️ বাবা আইনগত অভিভাবক হলেও
➡️ সন্তান মায়ের কাছেই থাকতে পারে, যদি তার জন্য সেটিই উত্তম হয়।
✔সন্তান কখনোই ঝগড়ার বিষয় নয়!
সন্তান হলো দায়িত্ব, সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের নিরাপদ ভিত্তি। বাংলাদেশের আইনও সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করাকেই প্রধান বিবেচনা হিসেবে দেখে।তাই বাবা–মায়ের সম্পর্ক যেমনই হোক, সন্তানের অধিকার ও নিরাপত্তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সেই লক্ষ্যে আদালত গুরুত্ব দেয়:
🔹সন্তানের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা
🔹স্থিতিশীল ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশ
🔹শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রয়োজনীয় যত্নসন্তানের উন্নতির জন্য সবচেয়ে উপযোগী অভিভাবকের কাছে রাখা। কারণ সন্তান কোনো সম্পত্তি নয় যে নিয়ে টানাহেঁচড়া হবে। সন্তান হলো আমাদের মানবিক দায়িত্ব, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম,এবং আমাদের সবার সম্মিলিত আশা।
এডভোকেট আফসানা মিমি
আইনজীবী,বরিশাল জজ কোর্ট।













