বরিশাল জিলা স্কুল কোচিং সেন্টারের কাছে ভাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়,জেলা প্রশাসকের কঠোর অবস্থান
বরিশাল জিলা স্কুলের ভবন ভাড়া দিয়ে বেসরকারি কোচিং সেন্টারের মডেল টেস্ট আয়োজনের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও নগরীর পরিচিত কোচিং ‘রেটিনা’কে বিদ্যালয়ের ভবন ভাড়া দিয়ে মডেল টেস্ট গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও নগরবাসীর মধ্যে।
আজ শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর সকাল থেকেই বরিশাল জিলা স্কুল ক্যাম্পাসে ভিড় জমে চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। রেটিনা কোচিং সেন্টারের আয়োজনে প্রায় চার শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেয় ‘মেডিকেল মডেল টেস্ট’এ। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলা ও তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয় এ পরীক্ষা। এ সময় বিদ্যালয়ের গেটের সামনে বসানো হয় ‘রেটিনা ডক্টরস হান্ট হেল্প ডেক্স’। এত বিশাল আয়োজনের জন্য ওই কোচিং সেন্টারের কাছে বিদ্যালয় ভবন ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় অনেকেই বিষয়টিকে অস্বাভাবিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন। নগরবাসীর প্রশ্ন, “সরকারি স্কুলের ভবন কি এভাবে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের কাছে ভাড়া দেওয়া যায়?”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এর আগেও অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময় ভাড়া দিয়েছি। তাতে কোনো দোষ হয়নি। এখন দিলে সমস্যা কোথায়? সরকারি নিয়মে নিষেধ আছে কি না, তা আমার জানা নেই। কোচিং কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছিল, তাই অনুমতি দিয়েছি। হয়তো ভুল হয়ে থাকতে পারে।” তার এমন বক্তব্য আরও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান শিক্ষক দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও নিয়মকানুন সম্পর্কে ‘অজ্ঞতা’ দেখানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।












