বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

তারেক রহমান:মানুষের হৃদয়কে বোঝেন,হৃদয়ের কথা বলেন

Reporter Name / ৯৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

◑আমিনুল ইসলাম◑

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাম নিঃসন্দেহে তারেক রহমান। যিনি দেশে না থেকেও আছেন। পাশে না থেকেও যার ছাঁয়া ঘিরে আছে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের আপামর মানুষকে। যার সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত যশোরের ‘শুভ্র বালিকা’ আফিয়া। অস্বাভাবিক গায়ের রংয়ের কারনে যার বাবা তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।
বছর তিনেকের কন্যা শিশুকে নিয়ে মা মনিরা যখন অকূল পাথারে তখনই তাদের পাশে দাঁড়ান মানবিক রাজনীতিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেন শিশুটি আর তার মায়ের। কেবল দায়িত্বই নয় শিশুটি সম্পর্কে তার বাবার ভ্রান্ত ধারণা যাতে নিরসন হয় সে বিষয়টিও দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন দলীয় নেতাদের ওপর। তারেক রহমানের এমন অভিভাবকত্ব কেবল আফিয়া আর তার মা মনিরাকেই নয়, আপ্লুত করেছে লক্ষ-কোটি সাধারণ মানুষকেও।

২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তারেক রহমানকে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। দুর্নীতি আর লুটপাটের কথিত গালগল্প বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে তারা তারেক রহমানকে কোনঠাসা করে ফেলে। কেননা তারা জানতো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার তারেক রহমানের মধ্যে যে মানবীয় রাজনৈতিক ধারা বহমান তার চর্চা যত বেশি হবে দেশের সাধারণ মানুষ ততোবেশি বিএনপির প্রতি আকৃষ্ট হবে। সে কারনেই তারা জনগণ থেকে তারেক রহমানকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত করেছে।
তবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রকে ধুলিস্মাত করে দিয়েছে। জনগণ আবিষ্কার করেছে একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিককে। জনগণ চিনতে পেরেছে সত্যিকারের নেতাকে। সঙ্কট কিংবা সম্ভাবনায় দূরদৃষ্টি সম্পন্ন একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে তারা পেয়েছে তারেক রহমানকে। যিনি তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভাবেন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে। কাজ করেন দেশের ভবিষ্যত বিনির্মাণের জন্য।

তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ্য সন্তান। পারিবারিক পরিচয়ে তিনি ক্ষমতার বৃত্তে বেড়ে উঠলেও ক্ষমতা তাকে কখনোই স্পর্শ করেনি। বরং তিনি বাবা ও মায়ের আদর্শে হয়ে উঠেছেন একজন দেশ ও মানবতাবাদী। সে কারনেই তিনি দেশের কোটি কোটি মানুষের কাঙ্খিত আগামীর রাষ্ট্রনায়ক। যার প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে তার অমিত সম্ভাবনা নিয়ে।
১৯৮৯ সালে বগুড়া জেলা বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজনীতিতে নাম লেখান তারেক রহমান। এরপর থেকে শুরু হয় তার রাজনীতিক হয়ে ওঠার লড়াই। ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নয় বরং তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন রাজনীতি। প্রান্তিক মানুষের সমস্যা-সঙ্কট আর সম্ভাবনার চুলচেরা বিশ্লেষন কিংবা উত্তরণের উপায় খুঁজতে খুঁজতে রাজনীতিকে নিজের কাছে সহজপাঠ্য করেছেন তিনি।

তিনি ধারণ করেছেন কৃষকের স্বপ্ন, মুটে আর মজুরের সংগ্রাম কিংবা তারুণ্যের সম্ভাবনাময় আগামীকে। তাইতো তার রাষ্ট্র দর্শণ কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্য এতোটা বাস্তব সম্মত হয়। যেন মানুষের হৃদয়ের কথা বলেন তিনি। যেন তিনি বলেন, আমি-তুমি আর আমরা যা বলতে চেয়েছি, অথবা ভেবেছি বলবো বলে-সেসব কিছুই।

তারেক রহমান দলীয় তেমন কোনো পদপদবীতে না থাকলেও বহু আগে থেকেই তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেন। তিনি নিজে রাজনীতি বুঝেছেন। যা ভেবেছেন কিংবা যেভাবে রাজনীতিকে দেখতে চেয়েছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন নেতাদের সঙ্গে। এভাবে খোলামেলা আলোচনায় উপকৃত হয়েছে দল। এগিয়েছে দেশ। রাজনীতিতে পরিপক্ক হয়েছেন তিনি।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের ভোট বিপ্লবের নেপথ্য কারিগর হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলেও তারেক রহমান সরকারে যোগ না দিয়ে সাংগঠনিক কাজে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হন। তার নেতৃত্বে দলীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পাদপ্রদীপে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানকে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কাউন্সিলের মাধ্যমে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ও দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চেয়ারপার্সন কার্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন তারেক রহমান।

রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক- এক কথায় দেশ এবং দল পরিচালনার এক আধুনিক গবেষণাগার হিসেবে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয় চেয়ারপারসন কার্যালয়ে। শিক্ষিত মেধাবী একদল আধুনিক কর্মীবাহিনী এবং বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের বাস্তবধর্মী কর্মযজ্ঞ শুরু করেন কর্মবীর তারেক রহমান। দক্ষ কর্মীবাহিনী দিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রকৃত সমস্যগুলোকে চিহ্নিত করন।

এরপর প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহন করে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সঠিক এবং কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করত: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহনকারী নেতৃবৃন্দকে সরবরাহ করার মধ্য দিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করেছে চেয়ারপার্সন কার্যালয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, সাহিত্য, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং যোগাযোগ, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং আধুনিকায়নের চ্যালেঞ্জসহ সামগ্রীক বিষয়ে গবেষণা করা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করার মধ্যে ছিল তার রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতা।
তারেক রহমানের ভিশনারি রাজনীতির অন্যতম এক দৃষ্টান্ত হচ্ছে ‘তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন’।

২০০২ সালে তৃণমূল পর্যন্ত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ছড়িয়ে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রাণশক্তিতে রূপান্তরের এক মহাযজ্ঞ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকাসমূহ চষে বেড়ান। তারেক রহমানের এই অফুরান প্রাণশক্তি তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘তারুণ্যের অহংকার’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করেন, এদেশের তরুণ সমাজের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাংলাদেশবাদী রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হলে একদিন এদের মাধ্যমেই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে এক রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হবে। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সঙ্গে করে লাখো মানুষের তুমুল হর্ষধ্বনি আর অবিরাম ভালবাসা সাথে নিয়ে সবুজ বাংলার প্রান্তর থেকে প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারেক রহমান।

২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাস দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা’ করে তিনি দলে নতুনভাবে আলোড়ন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। কেননা তিনি মনে করেন, বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীই দল ও দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক নির্দেশনা আর দক্ষ নেতৃত্ব তাদের ভেতর সুপ্ত নেতৃত্বকে জাগিয়ে তুলবে। সে কারনেই তিনি তৃণমূলে ঘুরে ঘুরে তাদের উজ্জীবীত করেন। তার এই অভিনব রাজনৈতিক ভাবনা ও তা বাস্তবায়নের প্রারম্ভিক কর্মসূচিগুলো ছিল নন্দিত, যথাযোগ্য ও সময়ের চেয়ে অগ্রসরমান। রাজনীতিতে তারেক রহমানের এই কর্মসূচী ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বিরোধী শিবিরেও তাকে নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।

রাজনীতির বাইরেও তারেক রহমানের সমাজ ও দেশ নিয়ে ভাবনার ইচ্ছা প্রবল। তিনি চেয়েছেন কখনোই যেন দেশের মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন না হন। ক্ষমতায় না থেকেও যাতে সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেওয়া যায় সে লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’। তার হাতে গড়া অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি আজ দেশে মানব সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কৃষি-শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা,পরিবেশ-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বহু বছর ধরে এই ফাউন্ডেশন নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
হাসিনার প্রায় ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী আমল শেষ হয়েছে। তারুণ্যের প্রবল ঝড়ে উড়ে গেছে অহংকার আর দম্ভের রাজপ্রাসাদ। দেশে এখন বইছে গণতন্ত্রের হাওয়া। রক্তস্নাত বিপ্লব আমাদের ধরে রাখতে হবে। এগিয়ে নিতে হবে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দূরদর্শিতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে ছড়িয়ে দিতে হলে এই মুহূর্তে তারেক রহমানের বিকল্প নেই। তার নেতৃত্বেই সৃষ্টি হবে এক নতুন ইতিহাস। বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ এখন তারই অপেক্ষায়। শুভ জন্মদিন ভিশনারী লিডার তারেক রহমান।জন্মদিনে আপনার প্রতি অফুরন্ত শুভ কামনা।

লেখক:
শব্দ শ্রমিক,
গবেষক,রাজনৈতিক বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা,নিরাপদ জীবন গড়ি
.


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর