বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

“একটা হলদে শাড়ী আর মুজা’র কাহিনী” পর্ব-১

।।ফারাবী মোস্তফা।। / ৫৮ Time View
Update : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

আদিলটাকে কয়েকদি ধরে ফোনে পাচ্ছি না।
ফেসবুক,মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম,হোয়াটসঅ্যাপে কিছুতেই ওকে রিচ করতে পারিনি।
আমরা বন্ধুমহল এনিয়ে খুব চিন্তিত! আর চিন্তা হবেই বা না কেনো?এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার আর মাত্র চার দিন বাকি,আমরা সবকিছু গুছিয়ে ওর ডেক্সটপে রেখেছি।শুক্রবার রাত ১ টা ওভার আমরা তখনো এসাইনমেন্টের কাজ করেছিলাম।অফিসিয়াল গ্রুপ ওয়ার্কে ও আমাদের টীম লিডার।এটা কমপ্লিট করে আমরা প্রোজেক্ট সাবমিট করে নেক্সট উইকে আমাদের সুইজারল্যান্ড যাওয়ার কথা।রীমুকে নিয়ে যাবে বলছিলো।
হঠাৎ একটা কল এলো ওর ফোনে।ও শুধু বললো ঠিক আছে।বলে ফোনটা রেখে দিলো,আমাদের বললো আমাকে একটু গুলশান যেতে হবে রে…..
এত রাতে?তাও একা
আরে রাত আর কতই হলো?বাদ দে,তোরা থাক
খুব দ্রুত বের হয়ে গেলো……
তারপর তিনটা দিন কেটে গেলো ওর কোনো খোঁজ নাই!বাড়ীতে ফোন করি নাই,ওর বাবা মা টেনশন করবে তাই।শেষে সামিরাকে ওদের বাসায় পাঠালাম,আমরা একই এলাকার। আমার বোন সামিরা আর ওর বোন শিমু খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবী।সামিরাকে শুধু এটুকুই বলেছি ওদের বাসায় কে কী করছে তা আমাকে জানাতে।ওকেও কিছু বুঝতে দেইনি।ও বুঝছে যেটা সেটা আমি জানি।যাক দেখি নিশ্চিত হতে পারি কী না?
সেখান থেকেও কোনো আশার বাণী আসলো না!
তাহলে আদিলের কী হলো….?আমি সামিরাকে ধমক দিয়ে বললাম, এখন ফোনটা রাখ।রাতে আর ঘুম হোলো না।

আজ দুপুরে লাঞ্চ টাইমে অফিসের ক্যান্টিনে বসেছি কেবল,এমন সময় একটা আননন নাম্বার থেকে কল এসেছে। রিসিভ করতেই বললো-
আপনি কী জামান সাহেব বলছেন?
-হ্যা আমি আশিক জামান,বলুন।
-আপনি কী আদিল সাহেবকে চেনেন?
-হ্যা ওতো আমার বন্ধু, ও কই?ওকেতো কোনোভাবে রিচ করতে পারছি না।দিনতো ফোনটা একটু ওর কাছে।
-দেখুন, শান্ত হন।আপনি গুলশান থানায় আসুন প্লিজ।
-থানায়,কিন্তু কেনো?
-আমরা আপনার বন্ধুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছি। লাস্ট কলটা আপনার নাম্বারে ছিলো তাই আপনাকে কল দেয়া….
সারা পৃথিবী যেনো আমার চতুর্দিকে ভন ভন করে ঘুরছে!
দ্রুত বাইক নিয়ে গুলশান চলে গেলাম।মাথায় এই ভাবনাটাই শুধু কাজ করছে….
নীলা’র লোভ চেলেটার জীবনটাকে শেষ করে দিলো!
অনেকবার না করেছি,এ নিয়ে ঝগড়াও হয়েছে।
ও হাসিমুখে শুধু এটুকুই বলতো-বাদ দে একটা ডিজাইন তো মাত্র। করে দিলে ক্ষতি কী?
আর এতোগুলা টাকা, এতো হাই লেভেলের অনারিয়াম কোনো কোম্পানি দেবে?
এরকম ডেভলপার কম্পানীকে হেল্প করা দরকার।
আর টাকাটা হাতে পেয়েই রীমুকে দিয়ে দিবো।ওরা ছয়তলাটা কমপ্লিট করে ফেলুক।ওর মুখটা ফ্যামিলির কাছে বড়ো থাকবে এটার চেয়ে বড় আর আমার জীবনে কী হতে পারে বল?
বলে আমার ঘাড়ে হাত রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমায় থামিয়ে দিতো।
তারপরও বলেছি এই প্রজেক্টটাতে তুই এত রিস্ক এর কাজে এগ্রিমেন্ট করিস না বন্ধু।
ও শোনেনি……
পথে যেতে যেতে এসব ভেবে আমার দুচোখ আশ্রুতে ঝাপসা হয়ে আসছিলো।কতক্ষণ পরপর হেলমেটের ভিতর থেকে শুধু চোখ মুছি,কিন্তু অশ্রু অবিরত…..

আমি হাউমাউ করে কেঁদে উঠি,আদিল বলে চীৎকার করতেই একজন সাব-ইনস্পেকটর এসে আমাকে শান্তনার স্বরে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ওর লাশের কাছে নিয়ে গেলো।
ওর নিথর দেহটা পরে আছে…….
ঐ সাব ইন্সপেকটর বললেন, ভাই শান্ত হন। ওনার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে হবে।
আপনি দয়া করে ফরমালিটিজ পেপারগুলোতে সাইন করে দিন।
আমি আপনাকে ও আদিল ভাইকে চিনি।
হয়তো আপনি আমাকে ভূলে গেছেন-আমি আপনাদের কলেজের দুই ব্যাস জুনিয়র ছিলাম।সবসময় আপনারা আমাকে আদর করতেন। তপন বাবুর দোকান থেকে পেয়াজু,সিঙ্গারা এনে কখনো আমাকে ছাড়া খেতেন না।ঈদে আপনার দুই বন্ধু যে কালার ম্যাচ করে পাঞ্জাবি পরতেন আমাকেও সেই কালারের পাঞ্জাবি উপহার দিতেন।
তুমি শুভ?
হ্যা ভাই বলে শুভ ও হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
আমরা দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম….

রিমুদের বাসা ঢাকা।ওরা স্থানীয়, ঢাকায় নিজেদের বাড়ি।
আদিলের ঢাকাতে থাকার সুব্যবস্থা থাকলেও ও আমাদের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতো….
বৃহস্পতিবার নীলুদের ওখানে যেতো আবার শনিবার চলে আসতো।মাস ৬ আগের কথা
একদিন রাত তিনটার দিকে আমার ফোনে ১০ /১২ টা কল।আমি ঘুমিয়ে পরেছিলাম তাড়াতাড়ি। হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি ফোন বাজতেছে।অনলাইন, অফলাইনে সমানে…
আমি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে চীৎকার, কী মরছো?ফোন রিসিভ করতেছিস না কেনো?
আরে রা…
-কী রাত ২.৩০ টা বাঝে?গাড়ীটা নিয়ে বের হয়ে আদর্শ বাগ আয়।
আমি পৌঁছে দেখি ও ঠায় দ্বাড়িয়ে একা,একটা রাস্তার উপর!
সেই থেকে ও আমার সাথে……..(চলবে)


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর