বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

রূপপুর প্রকল্পে দেশি দক্ষ জনশক্তির সাফল্য

°°আদিল সাদ°° / ৯০ Time View
Update : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুরে বর্তমানে প্রায় ২০,০০০ জন দেশি কর্মী বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রকৌশলী, ওয়েল্ডার, সার্ভেয়ার, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইন্সট্রুমেন্টেশন বিশেষজ্ঞ। মোট কর্মীবাহিনীর ৭৫–৮৫ শতাংশ দেশীয় এবং মাত্র ১৫–২৫ শতাংশ বিদেশি,যারা মূলত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।

বাংলাদেশি কর্মীরা কেবল সহকারী বা প্র্যাকটিক্যাল লেভেলে কাজ করছেন না, বরং আন্তর্জাতিক মানের “হাই-স্কিল টেকনিক্যাল ওয়ার্কফোর্স” হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাদের হাতে-কলমে অর্জিত অভিজ্ঞতা এখন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শিল্পবাজারে রপ্তানিযোগ্য মানবসম্পদ হিসেবেও মূল্যবান হয়ে উঠবে।

কারিগরি শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ রূপপুর প্রকল্প প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের টেকনিক্যাল শিক্ষা (TVET, ডিপ্লোমা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রকৌশল শিক্ষা) বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগযোগ্য। দেশের প্রায় ৫০০ থেকে ১,৫০০ জন প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং দেশে পরিচালিত স্থানীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেছেন। মোট কর্মীর মধ্যে ২০–৩০ শতাংশ সরাসরি টেকনিক্যাল কাজে যুক্ত—যার মধ্যে অপারেশন, মেইনটেন্যান্স, কন্ট্রোল সিস্টেম ও সেফটি ব্যবস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বড় ও উচ্চপ্রযুক্তির প্রকল্পে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

মানবসম্পদকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর রূপপুরে অর্জিত এই দক্ষতাকে রপ্তানিযোগ্য মানবসম্পদে রূপান্তর করতে প্রয়োজন কিছু কার্যকর উদ্যোগ:

১. জাতীয় দক্ষতা ডাটাবেজ: মেগা প্রকল্পে যুক্ত সব কর্মীর অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেশন সংরক্ষণ।

২. আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সার্টিফিকেশন: অর্জিত দক্ষতাকে বৈশ্বিক মানে স্বীকৃত করা।

৩. দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি সেল: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি।

৪. দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত কৌশল: ভবিষ্যতের সব মেগা প্রকল্পে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ডাটাবেজ-ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা।

সবশেষে বলবো,রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প শুধু বিদ্যুতের উৎস নয়; এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ জনশক্তি বিকাশ এবং বৈশ্বিক শিল্পবাজারে প্রবেশের নতুন দিগন্ত। দেশের টেকনিক্যাল শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ এবং প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রকল্প ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশি কর্মীরা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে সফলতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম। এখন প্রয়োজন এই দক্ষতাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা এবং তা অর্থনীতি,বৈদেশিক আয় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নে কাজে লাগানো।

(এই লেখাটি লেখকের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত….)
লেখক-কবি,সামাজিক ব্যক্তিত্ব,প্রকৌশলী


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর