বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

সবই সরকার খতিয়ে দেখবে-আড়ালে চাপা পরে বাংলাদেশীদের মানব জীবন

।।আদিল সাদ।। / ১৭২ Time View
Update : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫

দেশে যখন বড় মেগা প্রজেক্ট গড়া হয়, বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোয় তারা নিজের দেশের প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে করে একটি স্বতন্ত্র সার্ভে—কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইনভেস্টিগেশন (QC&I) গঠন করে। তাহলে আমাদের বড় কয়েকটি প্রকল্পে এমন কোন গঠন হয়েছে?
ইতিহাস এই প্রশ্নের জবাবে নীরব। বলা হয়—“প্রকৌশলী নেই।” কিন্তু এ কি বাস্তব নাকি কেবল পর্দার আড়াল ঢেকে রাখার জন্য তৈরী করা মিথ্যাবানী? কারণ যদি প্রকৌশলী ও স্বাধীন গুণগতঃনিরীক্ষা থাকতো, সচিবালয়ে যে কোটি কোটি টাকার বল্টন ঘোরে—তার অনেক তথ্যই প্রকাশ পেত। আর দুর্নীতির এই প্রবাহ তখন অসংগঠিতভাবে আরও ধরা পড়ত।

এক কথায় সমস্যা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও প্রশাসনিক স্বার্থসংগ্রাম। দুর্নীতি নজরকারি করার দফতরগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত—তারা কি সত্যিই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তির মুখে স্বাধীনভাবে কাজ করবে? না। ফলে সরকার বিদেশি ঠিকাদারদের হাতে কাজ বণ্টন করে—কারণ “কেউ টের পাবে না” — অথচ এই হাত বদলই দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী-ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা ক্ষুণ্ন করে। তাহলে BUET, CUET, RUET–এর দরকার কী? আছে, কিন্তু তাদের ক্ষমতা ও পরিবেশ ব্যবহার করার সুযোগই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

আর সবচেয়ে বিপজ্জনক পয়েন্ট—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আছি-না ব্যাপার। যেসব সচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা প্রায়শই মানবিক বা প্রশাসনিক পটভূমির লোক; তাদের কাছে প্রযুক্তিগত ধারণা বা বিজ্ঞানমনস্ক নীতি অনুপস্থিত—এটাই জটিলতার মূল। ফলে পরিকল্পনাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি হয় না; মেগা প্রকল্পগুলো হয়ে ওঠে কাগজের মুকুটভ ইনভেস্টমেন্ট—কাজ নয়।

প্রস্তাবিত সমাধান (কার্যকর ও বাস্তবসম্মত)

১) স্বতন্ত্র ভেরিফিকেশন কমিটি গঠন করো — জাতীয় স্তরে একটি স্বাধীন Quality Control & Investigation Commission (QCIC) গঠন করতে হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সমিতি (আইইবি), সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকৌশলীরা এবং নাগরিক সমাজ থাকবে।
২) প্রকল্প-স্তরে সালিশি সার্ভে বাধ্যতামূলক করো — প্রতিটি মেগা প্রকল্পের আগে ও পরে স্বাধীন সার্ভে রিপোর্ট প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
৩) প্রফেশনাল অডিট ও পাবলিক ডিসক্লোজার — বাজেট, কনট্রাক্ট, সাবকনট্রাক্ট, ল্যাব রিপোর্ট সবাই অনলাইনে প্রকাশ।
৪) প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানদের ক্ষমতায়ন — BUET/ RUET–কে প্রকল্প পরামর্শক হিসেবে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি; স্টুডেন্ট ইন্টার্নশিপ ও ল্যাব সাপোর্ট নিশ্চিত করা হবে।
৫) দূর্নীতি দমন সংস্থার রূপান্তর — দুর্নীতি কমিশনকে প্রযুক্তিগত মামলায় স্বাধীন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত তদন্ত ক্ষমতা দিন; রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন।
৬) পেশাগত নিয়োগ ও সচিবপদে টেকনিক্যাল যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করো — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নিয়োগে প্রযুক্তিগত যোগ্যতা থাকা জরুরি।
৭) হটলাইন ও whistleblower সুরক্ষা — তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে whistleblower-কে সম্পূর্ণ সুরক্ষা; তাদের অভিযোগ তদন্ত ও ফলাফল প্রকাশ হবে।

সম্পাদনায়:আদিল সাদ


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর