হারিয়ে যাওয়া শৈশবের ঢোল কলমী
আমাদের ছেলেবেলায় বাড়ির আশেপাশে সীমানায়,নদীর পাশের ভেরিবাঁধে বা ছাড়া বাগানে মাঠের সীমানার উঁচু অংশটা জোরে ছিলো ঢোল কলমী গাছ।অসম্ভব সুন্দর ফুল ফুটতো যা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যেত।আমাদের আশি নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম এই ফুলের প্রতি আকৃষ্ট ছিল।
কিন্তু নব্বই দশকের মাঝামাঝি থেকে হঠাৎ করে এই নির্দোষ ঢোল কলমী মানুষের শত্রু হয়ে উঠলো। ঢোল কলমির গায়ে এক ধরণের পোকা দেখা যায় যা পাতার উপর দিয়ে হেঁটে গেলে সাদা দাগ তৈরী হতো। এই সাদা দাগ তৈরীর অল্প দিনের ভিতর পাতা মরে শুকিয়ে যেত। প্রচার পেল এই পোকা খুব বিষাক্ত এবং মারণঘাতী। মজার বিষয় হলো কোথাও এই পোকার কারণে কেউ মারা গেছে সেই তথ্য পাওয়া যায় নি। এই প্রচারের কারণে মানুষ ঢোল কলমী একরকম উজাড় করে দেয় কেটে সমূলে উদপাটন করে। অথচ এই ঢোল কলমীর রয়েছে বহুবিধ গুণাবলী।
ঢোল কলমী ভাঙন রোধ এবং ভূমি তৈরীতে যথেষ্ট কার্যকরী। উপকূলীয় জেলাগুলোতে নতুন বাঁধ তৈরী করা হলে এই ঢোল কলমী দিয়ে বাঁধের ভাঙন ঠেকানো হতো। ঢোল কলমী গ্রামীণ জীবনে জ্বালানীর অন্যতম একটি উৎস ছিল। এই ঢোল কলমী একদিকে যেমন একটি ঔষধী গাছ অন্যদিকে কীটনাশকের ভূমিকা পালন করতো, পাশাপাশি লতানো সবজির রক্ষক হিসেবে এর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
আমার ছোটবেলায় কখনও সীম গাছে কীটনাশক ব্যবহার করতে দেখিনি। বাঁধের পাড়ে, জমিতে সীম লাগিয়ে এই ঢোল কলমির উপর তুলে দেয়া হতো। কিন্তু এখন সীম গাছে গ্যালন গ্যালন কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। আমার এখন মনে হয় এই ঢোল কলমী নিয়ে যে অপপ্রচার তা একটি গ্লোবাল পলিটিক্সের অংশ। কারণ এই ঢোল কলমির যে প্রকৃতি নির্ভর অর্থনীতি তা শুধু একটি প্রচারের মধ্য দিয়ে বিনাশ করা হয়েছে আর মানুষকে কীটনাশক, বাজার ভিত্তিক জ্বালানী, কংক্রিট নির্ভর ভাঙন প্রতিরোধকের দিকে ধাবিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় এই ঢোল কলমি ধ্বংসের মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক পরাগায়ণকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে কীটপ্রতজ্ঞ, প্রজাতি, পাখি, ফড়িংয়ের আবাস নির্মূলের মধ্য দিয়ে যা কৃত্রিম পরাগায়ণ ও গ্রোথ হরমোনের বাজারকে প্রসারিত করেছে।
লেখক-
মোঃ আব্দুর রহমান












