ভূমিকম্পের মাত্রা ৯ ছাড়াতে পারে;ঢাকার অর্ধেক ভবন ধসে পরার ঝুঁকিতে!
।।আমিনুল ইসলাম।।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব-দ্বীপ বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই বড় এক ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ঢাকা,
কিন্তু এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা এর পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য দেশের সক্ষমতার পরিসর অত্যন্ত নাজুক।
তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।বারবার এ নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে প্রস্তুতির তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
বাংলাদেশের ভেতরে বা আশপাশে প্রায়ই ছোট থেকে মাঝারি ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছে,যা জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি করছে।
তবে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও এ নিয়ে সচেতন নয় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ!দেশে মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ বিপর্যায়।ভূমি অব্যবস্থাপনা,অপরিকল্পিত নগরায়ন,প্রতিনিয়ত রাজধানীসহ এর আশপাশের এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে আবাসিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস,নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ,অধিকাংশ নামধারী ব্যাঙের ছাতার মত গজে ওঠা আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অপরিকল্পিতভাবে নামমাত্র রাজউক থেকে প্লান নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ,ভবনের স্টাবিলিটি,লোড টেস্ট না করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়া ও প্লান বহির্ভূত অতিরিক্ত ভবনে স্তর বাড়ানো যা ভবিষ্যতে ভয়ানক দিকে ধাবিত করছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক আবুল হোসেন,তিনিও বলেন একটি ভবন তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে তার বেজমেন্ট ও লোড নেওয়ার ক্ষমতা এ দুটো বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হয় না।এছাড়া সঠিক দেখভালের অভাব,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেও তাই করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বড় কোনো ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঢাকার পরিস্থিতি কী হতে পারে,সে বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি। তার গবেষণা অনুযায়ী, একটি বড় ভূমিকম্পে রাজধানীর প্রায় অর্ধেক ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন,ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোকাদ্দির হোসেনের মতে,‘ভূমিকম্পের বড় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাংলাদেশে শতকরা ২০ ভাগেরও কম।
দেশের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য এই শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।ভূমিকম্পবিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে,দেশের ভূমির নিম্নস্তরের অভ্যন্তরে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল বাংলাদেশকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
তবে আশার বাণী দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।তারা বলছেন ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে নতুন কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক(অপারেশন্স)লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য তারা নিজেদের প্রস্তুত করছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা এমন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিকল্পিত ও ভূমিকম্প সহনীয় নগরায়ন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।তাদের একটিই কথা “অপরিকল্পিত নগরায়ন এর হাত থেকে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে রক্ষা করার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও নাগরিক জীবনে সচেতনতা বৃদ্ধি,ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে করণীয় বা ভূমিকম্পের সময় উদ্বিগ্ন না হয়ে স্থির থাকা ও প্রয়োজনীয় কর্মকৌশলের প্রশিক্ষণ দেয়া সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি”












