তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার-বিদ্রোহী স্বর ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত
।।সিয়াম আহমদ।।
সম্প্রতি তারেক রহমানের দেওয়া সাক্ষাৎকারটি শুনেছি। ব্যাক্তিগতভাবে এর কোনো বড় আবেগ-উত্তেজনা আমাকে ছুঁয়েছে না — বেশিরভাগ বক্তব্য ছিল স্বাভাবিক, পরিচিত কাঠামোর মধ্যে। তবু শেষের পর্বটি মনোযোগ দিলে একখানি আলাদা ভঙ্গি ধরতে পারা যায়: চোখ, মুখ এবং গলার স্বরে যেন এক ধরনের বিদ্রোহী কণ্ঠের আবির্ভাব। সেটিই হয়তো আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ইঙ্গিতবাহী অংশ ছিল।
সাক্ষাৎকারে তিনি পারিবারিক কষ্ট-দুর্দশার স্মৃতি খুলে আনেন — কোকোর মৃত্যু, মায়ের অসুস্থতা, বাড়ি ধ্বংসের স্মৃতি। এসব কথা বলার সময়ে তার গলার স্বর নমনীয় ছিল না; কেন নয়—কারণ যে অন্যায়ের সাক্ষী তাঁর পরিবার হয়েছে, সেটাই বয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যক্তিগত স্মৃতি যখন রাজনৈতিক আঙ্গিকে উঠে আসে, তখন তা কেবল অনুভবগতিই নয়, শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও বয়ে আনে।
আরেকটি স্পষ্ট দিক—আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁর অবস্থান আগের থেকে বেশি সরাসরি ও কড়া শোনায়। সাক্ষাৎকারের শেষের দিকে যে বাক্যগুলো তিনি উচ্চারণ করেছেন, সেগুলো থেকে একটি অনুধাবন জন্মায়: ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বিএনপি-আওয়ামী লীগের টানাপোড়েন যে আরও প্রবল হতে পারে। আমারই এক মন্তব্য ছিল যে, ড. ইউনূসের সময় থেকে বিএনপি বিভিন্নভাবে নরমতা পেয়েছে—এবার ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন সময় আসতে পারে; অনেক নেতা-কর্মীকে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি থাকতে হবে—এমন ভাষাতেই আমি বিষয়টি শুনেছি।
তবে স্পষ্ট করতেই চাই—বিএনপি ক্ষমতায় আসুক বা না আসুক, সেটা আমার ব্যক্তিগত চিন্তার প্রধান বিষয় নয়। আমার স্বার্থ হলো—স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গণমুখী নির্বাচন। স্বৈরাচার নির্দিষ্ট ভাবে বিদায় পেয়েছে; এখন সময় যে কোনো পক্ষকেই জোর করে নয়, মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসতে দেখা। দেশের সার্বিক অগ্রগতি, গনতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা দরকার।
আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যতই উত্তপ্ত হোক, সমাধানই হবে ভোট ও সংলাপ—শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর ও জনগণের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়া। সাক্ষাৎকারে যে বিদ্রোহী স্বরটা শুনেছি, সেটি যদি দেশের স্বার্থে কানে পড়ে—তবে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে উচিত অবস্থান পরিষ্কার করে, জনগণের দরদ শোনা এবং সুষ্ঠু পথে আগানো। আমরা চাই—একটি বাংলাদেশ যেখানে সিদ্ধান্ত হয় ভোটে, নাইলে কেবলই জনশক্তি ও ঐক্যই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।












