উচ্ছেদ কিংবা অপসরণই কী সমাধান?
বাংলাদেশের নগরজীবনের দুটি বড় বাস্তব সমস্যা আজ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও হকার।এই দুই খাতকে ঘিরে যানজট, ফুটপাত দখল, জনভোগান্তি এবং নগর পরিকল্পনার নানা সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে এই ভোগান্তি থেকে নগরবাসী মুক্তি চায়—এটাই স্বাভাবিক। কোনো সচেতন নাগরিকই জনভোগান্তি কামনা করতে পারেন না।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—তাহলে এদের কী হবে?
শুধু উচ্ছেদ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?
বাস্তবতা হলো, এই দুই খাতের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি জড়িত। শুধু ঢাকাতেই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও হকারদের সংখ্যা মিলিয়ে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী। তারা কেউ শখ করে, স্বেচ্ছায় কিংবা নগরবাসীকে ভোগান্তিতে ফেলতে এই পেশায় আসেনি। জীবনযাত্রার কঠিন বাস্তবতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বেঁচে থাকার তাগিদই তাদের এই পেশায় নিয়ে এসেছে।
তাই সমস্যাটিকে শুধু ‘হকার উচ্ছেদ’ কিংবা ‘অটোরিকশা বন্ধ’ হিসেবে দেখলে হবে না। এখানে একদিকে যেমন নগরবাসীর চলাচলের অধিকার ও স্বস্তির বিষয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার প্রশ্ন।
জনভোগান্তির সমাধান করতে হবে, কিন্তু মানুষের জীবন-জীবিকাকে ধ্বংস করে নয়।
প্রয়োজন পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, বৈধ নিবন্ধন, নির্দিষ্ট চলাচলের রুট, নির্ধারিত হকার জোন, চালকদের পরিচয়পত্র ও লাইসেন্স, মালিকানা ও গ্যারেজ ব্যবস্থার জবাবদিহি এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা।
কারণ নগর পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু রাস্তা পরিষ্কার করা নয়;
মানুষের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর তৈরি করা।
তাই প্রশ্নটা হওয়া উচিত শুধু—
“হকার ও অটোরিকশা কীভাবে সরানো হবে?”
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—
“জনভোগান্তি কমিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা কীভাবে সুরক্ষিত রেখে নগর ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা যায়?”
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না; শুধু সমস্যার জায়গা বদলাবে।
মানুষকে বাদ দিয়ে নগর পরিকল্পনা নয়—মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

সৌরভ খান সুজন
সৌরভ খান সুজন
কলাম লেখক,রাজনৈতিক বিশ্লেষক,









