শহীদ রায়হান-এর কবিতা “আত্মধিক্কার”
আমরা যে হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিলাম,
আজ সেই হাতই ধাক্কা দেয়—
আমাদের কাঁপা শরীরকে অপমানের কাদায় ফেলে দিয়ে
তাদের তরুণ অহংকারে হাসতে হাসতে এগিয়ে যায়।
আমরা যে কণ্ঠে লোরি গেয়েছিলাম,
আজ সেই কণ্ঠকে তারা বলে সেকেলে—
আদিম যুগের হাড়গোড়ের মতো,
যা নাকি জ্ঞান নয়, বোঝা।
আমরা যে আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলাম অন্ধকারে,
তারা বলে— এ আলো আর দরকার নেই,
কারণ তারা স্মার্টফোনের নীল পর্দায়
নিজেদের ভবিষ্যৎ খুঁজে পেয়েছে।
কিন্তু তারা কি জানে,
যে পর্দার সার্কিট বোর্ডের
অপর প্রান্তে ঘামের সিঁড়ি বেয়ে
আমাদের প্রজন্মের রক্ত জমাট বেঁধে আছে?
ওরা যখন আমাদের “অপদার্থ” বলে
কফিশপের ধোঁয়া ভরা গর্বে,
আমাদের বুক ভেঙে যায়—
না, অপমানে নয়,
বরং আত্মধিক্কারে।
কেন আমরা এত বড় ভুল করলাম?
কেন আমরা আমাদের বুকের ভেতর
অতল দুঃখ লুকিয়ে রেখে
তাদের হাত শক্ত করেছিলাম?
কেন আমরা শিখিয়েছিলাম
পা গেড়ে দাঁড়াতে,
যাতে আজ তারা আমাদের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে
আমাদেরকেই ফেলে দিতে পারে ধুলায়?
আমরা ভেবেছিলাম ভবিষ্যৎ গড়ব,
কিন্তু গড়েছি—
এক প্রজন্মের শীতল মেশিন,
যারা আর মানুষকে দেখে না,
দেখে শুধু উপযোগিতা।
আমাদের বয়স আজ বোঝা,
আমাদের অভিজ্ঞতা— অবজ্ঞা,
আমাদের মুখের বলিরেখা— উপহাস।
তবুও আমরা নিশ্চুপ,
কারণ রক্তের সম্পর্ক অস্বীকার করা যায় না,
কোলের ঘুম অস্বীকার করা যায় না,
সেই প্রথম হাঁটার টলমল পদক্ষেপ অস্বীকার করা যায় না।
কিন্তু, হে তরুণ প্রজন্ম,
যখন তোমাদের চোখেও বার্ধক্যের ছায়া পড়বে,
তখন হয়তো তোমরা বুঝবে—
আমরা কেন আজ নিজেদেরই অভিশাপ দিই।
আমরা মানুষ গড়তে গিয়ে
এ কি গড়লাম-
অমানুষিক শ্রমে কি
অমানুষ গড়েছি?

শহীদ রায়হান











