ছেলেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়তে প্রত্যেক মা’এর করণীয়
।।শাহনাজ পারভীন লিনা।।
কথায় আছে”ছেলে সন্তানকে মানুষ করতে মা’কে লড়তে হয়”।আমাদের সমাজের প্রত্যেকটি ছেলেই মা ভক্ত।মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই কৌশল কাল পর্যন্ত প্রত্যেকটি ছেলে সন্তানই মায়ের উপর বেশিই নির্ভরশীল থাকে।
বাবা কাজেকর্মে ঘরের বাইরে থাকার ফলে অনেক বাবার পক্ষে নিজের ছেলেকে সঠিক সময়ে সময় দেয়াটা দুরূহ হয়ে পরে।যার ফলে সন্তানরা সুখ দুঃখ হাসি কান্না ভালো লাগা ভালোবাসা সবকিছুই মায়ের সাথে শেয়ার করে।আদর, ভালোবাসা, রাগ অনুরাগ,মায়ের স্নেহ মাখা হাতে কখনো কখনো মার খাওয়াটা এটা একটা ছেলের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত ভুমিকা হিসেবে কাজ করে।
একটা সন্তানের প্রথম এবং আজীবনের জন্য প্রধান শিক্ষকই হচ্ছেন তার মা।তাই একজন মাকে একটা ছেলেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়তে সবদিকেই খেয়াল রাখতে হয়।তাই মাকে যে সকল বিষয়গুলো অবশ্যই জেনে রাখতে হবে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ আজকে আমরা তুলে ধরছি।
মনে রাখতে হবে-ছেলেকে মানুষ বানানো মানে শুধু পড়াশোনা করানো নয়।
সত্যিকার মানুষ হতে হলে একজন ছেলের অন্তরে ভদ্রতা, সম্মানবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং নিজের প্রতি যত্নবোধ থাকতে হবে।
“এই গুণগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে শেখাতে পারেন একমাত্র মা”
ঘর থেকে বের হওয়ার আগেই মায়ের উচিত ছেলেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনপাঠ শেখানো—যা তাকে ভবিষ্যতে সাহায্য করবে।
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা:
রান্না শেখো-
– রান্নাঘর শুধু মেয়েদের জন্য নয়। ছেলেকেও চুলা ব্যবহার, বেসিক রান্না করা জানা প্রয়োজন। এতে তোমার স্বাধীনতা বাড়বে এবং মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
মেয়েদের সম্মান করো-
– তারা তোমার সমান। তাদের কথা মন দিয়ে শোনো, বোঝার চেষ্টা করো। কারো অনুভূতিকে ছোট করা কখনোই ভালো আচরণ নয়।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখো-
– নিয়মিত গোসল, নখ-চুল পরিপাটি রাখা, পরিষ্কার পোশাক পরা—এগুলো তোমার ভদ্রতার পরিচয়।
অন্যকে কষ্ট দিয়ে মজা করো না-
– হাস্যরস এমন হতে পারে, যা কাউকে অস্বস্তিতে ফেলে না। অন্যের কষ্টকে মজা বানানো কখনোই সত্যি মজা নয়।
সম্পর্কের বিষয়ে ভদ্রতা-
– কাউকে ফোনে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলা কখনোই শোভন নয়। সরাসরি এবং শালীনভাবে বিষয়টি আলোচনা করো।
ঘরের কাজ ও টুলস শেখো-
– হাতুড়ি, স্ক্রু, ছোটখাটো মেরামত করা—এগুলো জীবনের জরুরি দক্ষতা।
মেয়েদের “না” বোঝার ক্ষমতা-
– যখন কেউ বলে, “কিছু হয়নি,” অনেক সময় কিছু সমস্যা থাকে। মনোযোগ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করো।
গৃহিণীর কাজকে মূল্য দাও-
– গৃহিণীর পরিশ্রম কষ্টকর এবং সম্মানজনক। এটি কখনো হালকা করে দেখো না।
টেবিলের ভদ্র আচরণ শিখো-
– খাবার খাওয়ার সময়ের শিষ্টাচার জীবনের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। এটি মানুষ হিসেবে পরিচয় দেয়।
খারাপ সঙ্গ এড়িয়ে চলো-
– বন্ধুরা কখনো কখনো খারাপ পথে টানতে পারে। সাহস করে “না” বলো। এটিই তোমাকে শক্তিশালী করবে।
রাগের বদলে শান্তি-
– সমস্যা সমাধানে রাগ বা জেদ নয়, শান্তভাবে কথা বলাটা বেশি কার্যকর।
নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো-
– সতর্ক থাকা জীবনের অংশ। নিজের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান রাখো।
অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করো না-
– কাউকে ছোট দেখানো বা অসম্মান করা তোমার চরিত্রকে ছোট করে।
এটা মনে রাখতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে।কিন্তু একজন মায়ের শিক্ষা,তার ভালোবাসা এবং জীবনবোধই একটা ছেলেসন্তানকে প্রকৃত মানুষ বানায় ও তাকে জীবন যুদ্ধে প্রকৃত যোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
লেখক
“একজন মা”
কলাম লেখক,সংগ্রহক,প্রকাশক।












