আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে আজ ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হয়ে চলে ৩১ মে পর্যন্ত। প্রতি বছরের মত এবারও সুন্দরবনের গভীরে গিয়ে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ করবেন। তবে তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে সুন্দরবনের কয়েকটি বনদস্যু বাহিনী। যারা প্রতিনিয়ত বনজীবীদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় করছে। অন্যথায় চরম নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
এ বছর পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টল মধু ও ২১০ কুইন্টাল মোম ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১১০০ কুইন্টল মধু এবং ৬০০ কুইন্টল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার ১ এপ্রিল এবার মধু আহরণের জন্য মৌসুম শুরুর প্রথম দিন ধার্য করে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের ২ টি রেঞ্জ থেকে অনুমতিপত্র, বিএলসি (নৌকার পাস) দেওয়া হবে। এসব অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে মৌয়ালরা চলে যাবেন গহীন সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে মধু সংগ্রহ করতে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে গত বছর সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জে থেকে যে পরিমান পাশ নিয়ে মৌয়ালরা বনে মধু আহরণে গিয়েছিল সেটা বর্তমান খুবই কম। এর প্রধান করণ হলো বনদস্যুদের নির্যাতনে ও মুক্তিপনের জন্য মৌয়ালরা পেশা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
৪নং কয়রা গ্রামের মৌয়াল লুৎফার রহমান বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর মধু আহরণের জন্য অনুমতি পেয়েছি। ৬ জনের বহর নিয়ে ১৫ দিনের জন্য বাজার সদায় নিয়ে রওনা হচ্ছি। কিন্তু এ বছর ডাকাত দলের উৎপাত অনেক বেশি। তার উপর আবার বৃষ্টি কম, বৃষ্টি না হলে ফুল ঝরে যায় মধু জমে না। বৃষ্টি না হওয়ায় চাকে কেমন মধু হবে সেটা নিয়ে সন্দিহান তারা।
তবে সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় জেলে-বাওয়ালী ও মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে ছোট বড় মিলিয়ে কয়েকটি বনদস্যু দল থাকায় তারা মধু আহরণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বনদস্যুদের হাতে নিরিহ জেলে-বাওয়ালীরা তাদের চাহিদা মতো মুক্তিপন দিতে না পারায় হামলার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কারণ তাদের সাথে যোগাযোগ না করে বনে ঢুকলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যার কারণে তারা পূর্বের মতো সাচ্ছন্দ্যে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণে আগ্রহ হারাচ্ছে।
তারা আরও জানায় এবছর বনদস্যু বাহিনী বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেলে বাওয়ালী ও মৌয়ালদের হুমকি দিচ্ছে। তারা জানিয়েছে জন প্রতি ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপনের টাকা দিয়ে বনে প্রবেশ করতে হবে।
স্থানীয় কয়েকজন মৌয়ালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে সুন্দরবনে খলিশা ফুলের মধু আসে। এর ২০-২৫ দিন পর আসে গরান ফুলের মধু। শেষে আসে কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু। এই তিন প্রজাতির মধুর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ও দামি হচ্ছে খলিশার মধু। মৌসুমের প্রথম ফুলের মধু যা দেখতে সাদা, গাঢ় ও অনেক বেশি মিষ্টি। তবে বৃষ্টি না হলে ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, মধু জমে না। এ বছর তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মধু না পাওয়ার শঙ্কা আছে।
কয়রার মৌয়াল মোকছেদ আলী যানান, এলাকয় তেমন কোন কাজকর্ম না থাকায় মহাজনদের কাছ থেকে ধার দেনা করে মধু কাটতে যাচ্ছি। মধু না পেলে চালানে মার খাবো, ঋনের বোঝা টানতে হবে। আবার সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাত দল আছে তাদের কাছে ধরা পড়লে গুনতে হবে টাকা। আরেক মৌয়াল আমিরুল জানান, এ বছর “ডাকাতের যা উৎপাত শুনতেছি তাতে চালান বাচবে কিনা বুঝতে পারছি না। বাজার সদায় করা না হয়ে গেলে এ বছর বনে মধু কাটতে যেতাম না।”












