কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের কাজিরহাট এলাকায় হালদা নদীর ওপর স্থাপিত ভূজপুর রাবার ড্যাম এখন কৃষি উন্নয়ন ও পর্যটনের এক অনন্য সম্ভাবনার নাম। ২০১২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রকল্পটি মূলত বোরো ধান চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়, যা বর্তমানে হাজারো কৃষকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
কাজিরহাট সংলগ্ন কৈয়া ছড়া ডলু চা বাগানের সীমানা ঘেঁষে হালদা নদীতে স্থাপিত এই রাবার ড্যাম শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে আশপাশের বিস্তীর্ণ জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করছে। এর ফলে কয়েক হেক্টর জমিতে বোরো ধানের পাশাপাশি আলু, মরিচ, বরবটি, টমেটো, শসা, মিষ্টি কুমড়া ও মুলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে। উঁচু জমিতে দমকলের সহায়তায় পানি তুলে কৃষিকাজ পরিচালনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই রাবার ড্যামকে কেন্দ্র করে শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। একসময় অনাবাদি বা খরাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত অনেক জমিই এখন সবুজ ফসলের আবাদে ভরে উঠেছে।
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই রাবার ড্যাম এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনাও। ড্যাম সংলগ্ন ভূজপুর শিশুপার্ক, কৈয়া ও আছিয়া চা বাগানের মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। সবুজ চা বাগান, নদীর স্বচ্ছ পানি এবং নিরিবিলি পরিবেশ মিলিয়ে এলাকাটি দিন দিন বিনোদনপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাও তুলনামূলক সহজ। চট্টগ্রাম শহরের মুরাদপুর বা অক্সিজেন মোড় থেকে বাসযোগে ফটিকছড়ির বিবিরহাট পৌঁছে সেখান থেকে সিএনজি বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে কাজিরহাট হয়ে রাবার ড্যামে যাওয়া যায়। এছাড়া ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকেও কাজিরহাট বাজার হয়ে মাত্র ২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব এই স্থানে।
সব মিলিয়ে, ভূজপুর রাবার ড্যাম এখন শুধু একটি সেচ প্রকল্প নয়, বরং কৃষি, অর্থনীতি ও পর্যটনের সমন্বয়ে উত্তর চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।












