গর্ভবতী মা’র যত্ন ও কিছু কথা
আমাকে যখন কেউ বলে “আপনার ভাবি একটু অসুস্থ”। যদিও এটা আমার বুঝতে কিছুদিন সময় লেগেছে, পরে বুঝতে পেরেছি:
এটা কোনও সাধারণ অসুস্থতা নয় লা, এর মানে হচ্ছে উনি প্রেগন্যান্ট। এর ক্ষমতা সাংঘাতিক। এই প্রেগন্যান্সি এর শেষ “নরমাল ডেলিভারি” তে নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সার্জিকাল বা সিজারিয়ান এর মাধ্যমে।
আসলে জীবনের একটু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হচ্ছে এই প্রেগন্যান্সি। যার মাধ্যমে আপনি, আমি, আমরা সবাই মা এর মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছি। কিন্তু সেটাকেই আমরা অসুস্থতার অংশ বানিয়ে ফেলেছি। আর অসুস্থতার শেষ টাকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিজারিয়ান সমাধান এ।
আসলে বিদেশে বলা হয় Emergency C-section. মানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডেলিভারি হবার কথা নরমাল ডেলিভারি। কোনও ইমার্জেন্সি অবস্থা তৈরি হলে সেক্ষেত্রে হবে ইমার্জেন্সি সিজারিয়ান। এটা স্বাভাবিক অবস্থায় ডাক্তার এবং মা/বাবার দিক থেকে কখনোই প্রথম চয়েস হওয়া উচিত নয়।
নিচে জেনে নেওয়া যাক স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) এর কি কি উপকারিতা রয়েছে:
✔মায়ের জন্য উপকারিতা
১. দ্রুত সুস্থ হওয়া
• হাসপাতালে কম সময় থাকতে হয়
• অপারেশনের মতো বড় কাটা-ছেঁড়া নেই
• দৈনন্দিন কাজে দ্রুত ফিরতে পারেন
২. অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কম
সিজারিয়ানের মতো বড় সার্জারি নয়, তাই:
• সংক্রমণের ঝুঁকি কম
• অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা কম
• অ্যানেস্থেশিয়ার জটিলতা কম
৩. ভবিষ্যৎ গর্ভধারণে ঝুঁকি কম
বারবার সিজারিয়ান করলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়তে পারে (যেমন প্লাসেন্টা জটিলতা)।
স্বাভাবিক প্রসবে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
৪. দ্রুত হাঁটা-চলা ও শিশুর যত্ন নেওয়া
• দ্রুত হাঁটতে পারেন
• সহজে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন
• নিজের ও শিশুর যত্ন নিতে সুবিধা হয়
৫. খরচ কম
স্বাভাবিক প্রসব সাধারণত সিজারিয়ানের তুলনায় কম ব্যয়বহুল।
শিশুর জন্য উপকারিতা
১. শ্বাসপ্রশ্বাসে সুবিধা
স্বাভাবিক প্রসবের সময়:
• শিশুর ফুসফুসের অতিরিক্ত তরল বের হয়ে যায়
• শ্বাস নেওয়ার জন্য শরীর প্রস্তুত হয়
ফলে জন্মের পর শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়
জন্মের সময় শিশুর শরীরে উপকারী জীবাণু প্রবেশ করে, যা:
• অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে
• ভবিষ্যতে অ্যালার্জি বা কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে
৩. কম জটিলতা
কম ঝুঁকির গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক প্রসবে:
• নবজাতকের জটিলতা তুলনামূলকভাবে কম
• এনআইসিইউতে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন কম হয়
মানসিক ও হরমোনজনিত উপকারিতা
প্রসবের সময় মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন ও এন্ডরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা:
• মা-শিশুর বন্ধন মজবুত করে
• বুকের দুধ খাওয়াতে সাহায্য করে
• মানসিক স্বস্তি দেয়
এখানে ক্লারিফাই করা প্রয়োজন: নরমাল ডেলিভারি কম ঝুঁকির গর্ভাবস্থায় ভালো, নিরাপদ এবং প্রথম চয়েস হওয়া উচিত। তবে কোনো জটিলতা দেখা দিলে, ইমার্জেন্সি হলে, মা ও শিশুর জীবন রক্ষায় সিজারিয়ান প্রয়োজন হতে পারে।
লেখক-
ডাঃইউসুফ












