বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

অসুস্থ হবে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তির নাম জুলাই শহীদ গেজেটে!

।।ডেস্ক রিপোর্ট।। / ১২ Time View
Update : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

জুলাই শহীদ হিসেবে গেজেটে নাম রয়েছে আল হামীম সায়মনের। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তার মৃত্যুর পর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জুলাই অভ্যুত্থান শাখা প্রকাশিত গেজেটের ৮৪৪ জনের তালিকায় ১০৭ নম্বরে স্থান পায় তার নাম। তবে সম্প্রতি তার মৃত্যু নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন—তিনি কি সত্যিই আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, নাকি অন্য কারণে মৃত্যু হয়েছিল?

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চরচা’র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জুলাই শহীদ হিসেবে গেজেটে নাম থাকা আল হামীম সায়মনের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

অভিযোগ উঠেছে, তিনি আন্দোলনে নিহত হননি বরং ভিন্ন এক ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছিল।
মৃত্যুর পর সায়মনের মরদেহ দাফন করা হয় তার গ্রামের বাড়ি দাউদকান্দিতে। সরকারঘোষিত সহায়তা হিসেবে তার পরিবার পায় ৩০ লাখ টাকা। তার হত্যার অভিযোগে একটি মামলাও দায়ের করা হয়, যেখানে এক থেকে দেড়শ অজ্ঞাতনামা আসামিকে খোঁজা হচ্ছে।

প্রায় দুই বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিল না।
কিন্তু নতুন করে ওঠা অভিযোগ বলছে, জুলাই আন্দোলনে অংশ না নেওয়া সায়মনকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, সায়মন একটি বারে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের উদ্যোগে ও কাগজপত্রের ব্যবস্থাপনায় তাকে জুলাই শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এমন অভিযোগই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
আন্দোলনে না গিয়েও জুলাই শহীদ সায়মন

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার। এদিন কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুরো দেশ ছিল রণক্ষেত্র। রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের দিনভর সংঘর্ষ চলে।

এদিকে রাজধানীর সবুজবাগ থানার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণগাঁও এলাকার আল হামীম সায়মন বিকেল ৩টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। তারপর আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি তার। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ পরিবার জানতে পারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা আছে সায়মনের মরদেহ।
পরদিন ভোরে মরদেহ নিয়ে এসে এলাকায় জানাজা শেষে দাউদকান্দির গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় সায়মনকে। এর কিছুদিন পর জুলাই শহীদ হিসেব স্বীকৃতি পান আল হামীম সায়মন। সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় ৩০ লাখ টাকার অনুদান পায় তার পরিবার, সামনে মিলবে আবাসনও।

সায়মনের মৃত্যু নিয়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুন রাজধানীর রামপুরা থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা কামরুজ্জামান। এতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। মামলার পর গত ৮ মাসে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ।

জুলাই শহীদ হিসেবে সায়মনের নাম গেজেটভুক্ত হলে প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। সায়মনকে যারা চেনেন, তারা জানেন সায়মন কখনো জুলাই আন্দোলনে অংশ নেননি। উল্টো তিনি ছিলেন জুলাইবিরোধী। সায়মন নিজে স্বক্রিয় ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে। দীর্ঘদিন সবুজবাগ থানার ৭৩ নং ওয়ার্ডের শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৪ সালে চূড়ান্ত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন সায়মন। এ সম্পর্কিত দাপ্তরিক নথি সংগ্রহ করেছে চরচা। সায়মনের ফেসবুক প্রোফাইলে এখনো শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে এম শহীদুল্লার সঙ্গে তার ছবি দেখা যায়।

সায়মনের স্থানীয় একাধিক বন্ধু ও প্রতিবেশী চরচাকে জানান, জন্মগত কিছু শারীরিক ত্রুটির কারণে সায়মন ছিলেন কিছুটা দুর্বল প্রকৃতির। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনি ছিলেন জুলাই আন্দোলনের ঘোর বিরোধী। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত নিজের ফেসবুক আইডিতে জুলাই আন্দোলনবিরোধী স্ট্যাটাস দেন সায়মন। তবে সায়মন মারা যাওয়ার পর তারই আইডি থেকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সকল পোস্ট ডিলিট করে দেয় তার পরিবারের সদস্যরা।

সায়মনের বাসার পাশের এক বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, “আমরা আন্দোলন নিয়ে কিছু কইলেই সায়মন আমাগো ধমকাইতো, হ্যায় কইতো শেখ হাসিনা এই দেশের মালিক। তোরা কোন ফাউ (বাজে) কথা কইবিতো একেকটারে লটকামু। ওর এমন ধামকিতে (বকাঝকায়) আমরা হাসতাম, আরও বেশি মজা নিতাম ওর লগে। ওয় প্রতিবন্ধী তো, ওরে আমরা গুনতাম না। অয় যে কত বড় আওমী লীগ আছিল, হেইডা বুঝতেন ওর আইডির পোস্টগুলা দেখলে। অহন তো নাই, সব ফালায় দিছে অর বাপে।”

স্থানীয় কয়েকজন দোকানি জানান, সায়মনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য এলাকার সকলেই তাকে স্নেহ করতেন। স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী করিম হাজী চরচাকে বলেন, “ওর নাম ঠিকমতো আমি জানতাম না। তবে সবসময় চোখের সামনে দেখতাম দুর্বল একটা ছেলে, তাই মায়া করতাম। ’২৪ সালে জানলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। তখন হাসাহাসিও করছি–ওর শরীর চলে না, রাজনীতি করবে কী? বলতাম, আমার কাছ থেকে দুধ কলা নিয়ে বেশি করে খাও মিয়া, না হলে স্লোগান দিবা কীভাবে? মাঝেমধ্যে আসত আমার কাছে–কী একটা সংগঠনের নাকি নেতা হয়েছে, বলত অনুষ্ঠান করার জন্য চাঁদা লাগবে। খুশি হয়ে দিয়ে দিতাম ৫০–১০০ টাকা। ওকে চিনতাম এভাবেই। হঠাৎ শুনি স্ট্রোক করে মারা গেছে। আবার এখন শুনি জুলাই শহীদ। কীভাবে কী হলো, কিছুই বুঝলাম না।”

একটি চায়ের দোকানে কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে। তাদের দাবি–সায়মনের মৃত্যু হয় অতিরিক্ত মদ্যপানে। এ তথ্য যেন ছড়িয়ে না পড়ে, এ জন্য তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে আসে তার বাবা কামরুজ্জামান। স্থানীয় নূর মসজিদে গোসল এবং জানাজার পর গ্রামে নিয়ে দাফন করা হয় সায়মনের মরদেহ।

এ বিষয়ে কথা হয় সায়মনের বাবা কামরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি নিজেও জানান, ১৮ জুলাইয়ের আগে কখনো আন্দোলনে যাননি সায়মন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে এর আগে এসবে যায় নাই। ওই দিনও সারাদিন ঘরে। বিকালে একটা ফোন আসল, ‘আসতেছি’ বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। তারপর তো শুনলাম রামপুরা ব্রিজের ওপর আন্দোলনে গিয়েছিল। সেখানে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ–সায়মন জুলাই শহীদ নন–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এলাকার মানুষ শয়তান। তারা আমার আর আমার ছেলের ক্ষতি করতে চায়। আমার ছেলে জুলাই শহীদ। এটা সরকারের কাছেই প্রমাণ আছে। এলাকার মানুষের কথায় কাজ হবে না।”

মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিতর্ক, হয়নি ময়নাতদন্ত

দক্ষিণগাঁও নূর মসজিদে ১৯ জুলাই জানাজার নামাজ হয় সায়মনের। তার আগে এই মসজিদেই গোসল করানো হয় সায়মনকে। জানাজা পড়িয়ে আরও একদিন মসজিদের হীমঘরে রাখা হয় সায়মনের মরদেহ। তারপর গ্রামে নিয়ে দাফন করা হয় তাকে। মসিজদের মোয়াজ্জিন নূর ইসলাম চরচাকে জানান, “আমাদের নূর মসজিদে লাশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে।

ছেলেটির গোসল আমাদের এখানে করানো হয়। জানাজার নামাজ আমি নিজে পড়াই এবং ৫০০ টাকা করে দৈনিক হাদিয়ায় দুদিন আমাদের ফ্রিজে লাশ রাখা ছিল।” তার মৃত্যুর কারণ কী ছিল–জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রথমে তো শুনেছিলাম অসুস্থ ছিল। পরে শুনলাম মদ খেয়ে মারা গেছে। কয়েকদিন আগে সিআইডি থেকে লোক এসেছিল এই বিষয় জানতে। তাছাড়া আর কিছু জানা নেই।”

আল হামীম সায়মনের মৃত্যু নিয়ে এমন বিতর্ক থাকার পরও মৃত্যুর সঠিক কারণ কেন জানা যায়নি এবং ময়নাতদন্ত কেন হয়নি তার খোঁজ শুরু করে চরচা। নজর দেওয়া যাক তার ডেথ সার্টিফিকেটে। ১৮ জুলাই রাত ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যু সনদে মৃত্যুর কারণের ঘরে চিকিৎসক লেখেন–“Brought In Death. Cause of death will be ascertained after post mortem. H/O Physical Assault”। অর্থাৎ, সায়মনকে মৃত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া জানা সম্ভব নয়। তাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। সেই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়–রোগীর স্বজনের কাছ থেকে শারীরিক নিপীড়নের তথ্য মিলেছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে সায়মনের ভর্তির টিকিটের ছবিও সংগ্রহ করেছে চরচা। তাতে দেখা যায়, চিকিৎসক সায়মনের টিকিটে উল্লেখ করেন–রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় তার শরীরে রক্তচাপ, হার্টবিট এবং কোন অক্সিজেনের সরবারহ পাওয়া যায়নি; তাই তিনি মৃত। পাশে বুলেট ইনজুরি উল্লেখ করে এটি পুলিশ কেইস হিসেবে গ্রহণের জন্য টিকিটে নির্দেশনা সিল দিয়ে দেন চিকিৎসক।

মৃত্যু সনদে পরিষ্কার উল্লেখ থাকার পরও ময়নাতদন্ত ছাড়াই সায়মনের মরদেহ ভোর রাতে হাসপাতালের মর্গ থেকে নিয়ে আসে স্বজনরা। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? তা জানতে কথা হয় সায়মনের বন্ধু মো. শুভর সঙ্গে। তিনি চরচাকে জানান, সায়মনের মতো তিনিও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বন্ধুর মৃত্যুর পর খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে সেখানে সায়মনের বাবা আর বোনকে দেখতে পান। সায়মনের বাবা শুভকে অনুরোধ করেন, যেকোনো মূল্যে সায়মনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া নিয়ে যেতে হবে। বাধ্য হয়ে সবুজবাগ এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তা নেন শুভ।

শুভ বলেন, “আঙ্কেলের কান্নাকাটি দেখে আমি আমাদের একজন কাউন্সিলর বড় ভাইকে সব ঘটনা জানাই। তিনি সায়মনের বাবাকে আর বোনকে সবুজবাগ থানায় পাঠিয়ে থানায় ফোন করে বলেন, যেন তাদের সাহায্য করা হয়। তারপর তারা থানায় গিয়ে ভোররাতে একজন পুলিশ সদস্যসহ হাসপাতালে ফিরে আসেন। এই পুলিশ সদস্য মর্গে আমাদের সামনে সুরতহাল তৈরি করেন। পুলিশ সদস্য আমাদের সাহায্য নিয়ে সায়মনের সব কাপড় খুলে সারা শরীর চেক করেন এবং আমাদের দেখান। আমরা কোনো আঘাত তার শরীরে খুঁজে পাইনি। ওর শরীরে যে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই, এই মর্মে আমরা নিজেরা সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাক্ষী দিই। সে সময় পুলিশ সায়মনের বাবাকে জিজ্ঞেস করেন যে, কীভাবে মারা গেছে? আঙ্কেল বলেন, ‘আমার ছেলে অসুস্থ ছিল। স্ট্রোক করে মারা গেছে।’ এরপর পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে।”

সেদিন সবুজবাগ থানা থেকে সায়মনের বাবার সঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন উপপরিদর্শক বিমল মধু। চরচাকে তিনি বলেন, “সায়মনের বাবা ওই রাতে হাসপাতালে গিয়ে জানান, তার ছেলে অসুস্থ ছিল। স্ট্রোক করে মারা গেছে। কিন্তু হাসাপাতালে পোস্টমর্টেমের জন্য আটকে রেখেছে। তিনি থানায় এসে কান্নাকাটি করে ছেলের লাশ ছাড়িয়ে দিতে আমাদের কাছে অনুরোধ করেন। তার ‘ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করবেন না’ মর্মে সবুজবাগ থানায় প্রত্যয়নপত্র দেন তিনি। এরপর আমি তাদের সঙ্গে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করি।”

সায়মনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন মিলেছিল কি না, জানতে চাইলে উপপরিদর্শক বিমল বলেন, “আঘাতের চিহ্ন পেলে কি আমি এই বডি নিতে দিতাম। কোনো চিহ্ন ছিল না। একেবারে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হয়েছে। শুধু পেট একটু ফোলা মনে হয়েছে। আমি সুরতহালেও তা উল্লেখ করেছি।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে সায়মনের মরদেহের সুরতহালের সময় নিয়ম মেনে কিছু ছবি তুলে রাখেন বিমল মধু। কয়েকটি ছবি সংগ্রহ করেছে চরচা। ছবিতে সায়মনের শরীরে কোনো আঘাত দৃশ্যমান হয়নি।

সূত্র -কালের কন্ঠ


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর