ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স:আমার জীবনের গল্প
ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডেকোটার পিএইচডি প্রোগ্রামের দি প্রফেসরিয়েট কোর্সের এই সপ্তাহের ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স সম্পর্কিত ভিডিও এবং কোর্স ম্যাটেরিয়ালস আমাকে এক গভীর আত্মসমালোচনার দিকে নিয়ে গেছে। জীবনের দীর্ঘ সময় আমি বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছি, যেখানে কর্মসংস্কৃতি ছিল অনেকটাই স্বাধীন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি, চেক-ইন বা চেক-আউটের প্রয়োজন ছিল না। শিক্ষকতা, গবেষণা এবং সার্ভিস এই তিনের মধ্যে কোনো আইনগত ভারসাম্যের প্রত্যাশা ছিল না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন পরিবেশে আমি ধীরে ধীরে এমন এক পেশাগত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগই যেন ছিলো নিয়ম।
বাস্তবতা হলো, আমার জীবনে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স বলতে তেমন কিছু ছিল না। পেশাগত দায়িত্ব, প্রশাসনিক কাজ, গবেষণা, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক এসবকিছুই আমার সময়কে পুরোপুরি গ্রাস করেছিল। পরিবার ছিল, কিন্তু সেই পরিবারে আমার উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। আমার স্ত্রী একাই সন্তানদের বড় করেছেন; আমি সারা জীবনই কাজে, দায়িত্বে ও অর্জনের দৌড়ে ব্যস্ত থেকেছি। ঝড়-বৃষ্টি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বা যেকোনো বাঁধাই আমাকে কখনো কর্ম থেকে দূরে রাখতে পারেনি। অবশ্য সেই কর্মস্পৃহাই আমাকে সমাজে দায়িত্বশীল অবস্থান দিয়েছে, দিয়েছে সম্মান ও সাফল্য, কিন্তু নিয়েছে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য।
উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি নতুন একাডেমিক অভিযাত্রার অংশ হিসেবে। এখানে এসে যখন ভিন্ন ধারার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করছি, তখনো সেই পুরোনো অভ্যাস কাজ করছে। অল্প সময়ে বেশি কাজ, বেশি চাপ, বেশি অর্জনের ইচ্ছা। ফলে এখানেও ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে এই সপ্তাহের মডিউলগুলো আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পেশাজীবনের জন্য কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে সুস্থ ভারসাম্য অপরিহার্য।
আমি অবশ্য সবসময়ই টাইম ম্যানেজমেন্টে বিশ্বাসী। দিনের কাজের চেকলিস্ট আমাকে কাজ শেষ করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এখন বুঝছি যে, টাইম ম্যানেজমেন্টই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনভাবে নিজেকে সময় দেওয়া, পরিবারকে সময় দেওয়া, এবং বিশ্রামকে প্রাধান্য দেওয়া।
ভবিষ্যতে আমি সচেতনভাবে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স গড়ে তুলতে চাই, কাজে নিবেদিত থেকেও ব্যক্তিজীবনের প্রতি দায়বদ্ধ হতে চাই। পেশা, পরিবার ও ব্যক্তিগত সুস্থতার মধ্যে সমন্বয় করে টেকসই সাফল্য অর্জনই হবে আমার পরবর্তী লক্ষ্য।












