পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জ্ঞানী কে, তা আল্লাহ নির্ধারণ করেন এবং এটি সম্পূর্ণভাবে মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধ তার ওপর নির্ভরশী। এই বিষয়ে হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত খিজির (আঃ) এর ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যখন হযরত মূসা (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,তখন তিনি নিজেকে সবচেয়ে জ্ঞানী মনে করেছিলেন, কারণ তিনি আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত নবী ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে জানালেন যে, তাঁর চেয়েও জ্ঞানী একজন ব্যক্তি আছেন, যিনি দুই নদীর সঙ্গমস্থলে থাকেন।
হযরত মূসা (আঃ) আর বাণী ইসরাইলের এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো "বর্তমান পৃথিবীতে বেশি কোন ব্যক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি । মূসা (আঃ) এর উত্তরটি অহংকারপূর্ণ ছিল বলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন, কেননা তিনি জ্ঞানের উৎস হিসেবে আল্লাহকে উল্লেখ করেননি। হযরত মূসা (আঃ) যখন বলে ফেলছেন তখন আল্লাহ বলে না তোমার থেকেও বড় জ্ঞানি আছে। হযরত মূসা (আঃ) বলে আমার চেয়ে বড় জ্ঞানী আছে। কে? হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহকে বলে আমার চেয়ে বড় জ্ঞানী কোথায় থাকে।
আল্লাহ হযরত মূসা (আঃ) কে নির্দেশ দেন খিজির (আঃ) এর কাছে যেত এবং তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে।
হযরত মূসা (আঃ) তার সফর শুরু করেন না এবং দুই নদীর সঙ্গমস্থলে খিজির (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। আল্লাহ বলেন মূসা (আঃ) শুনো খিজির (আঃ) তোমার চেয়েও জ্ঞানী । হযরত মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। সালামের জবাব দিয়ে তিনি বললেন, এখানে সালাম এল কী করে? তিনি বললেন, আমি হযরত মূসা (আঃ)। লোকটি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বনি ইসরাইলের হযরত মূসা (আঃ)? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আপনাকে শেখানো সহজ ও সঠিক জ্ঞানের কথা শিখার জন্য আমি আপনার কাছে এসেছি। তিনি বললেন, হে মূসা, আল্লাহর দেওয়া ও শিখানো কিছু জ্ঞান আমার আছে, আপনি তা জানেন। আল্লাহর দেওয়া ও শিখানো কিছু জ্ঞান আপনারও আছে, আমি তা জানি না।
মূসা (আঃ) বললেন, আমি কি আপনার সঙ্গী হতে পারি? খিজির (আ.) বললেন, আমার সঙ্গে থাকলে আপনি ধৈর্য রাখতে পারবেন না। তাছাড়া যার রহস্য আপনার জানা নেই, সেসব ব্যাপারে আপনি ধৈর্য রাখবেন কী করে?
মূসা (আঃ) বললেন, ইনশা আল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি আপনার কোনো আদেশই অমান্য করব না।
এর পর তাঁরা দুজনে রওনা হয়ে নদীতীর দিয়ে এগিয়ে চললেন। এমন সময় একটি নৌকা তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তাঁরা তাঁদেরও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। ওঁরা খিজির (আঃ)-কে চিনে ফেললেন, সঙ্গীসহ তাঁকে পারিশ্রমিক ছাড়াই নৌকায় তুলে নিলেন।
হযরত মূসা (আঃ) সেখানে গেলেন নৌকার মধ্যে বসা হঠাৎ একটা চড়ুই পাখি এসে সাগরের পানি পান করছে। খিজির (আঃ) বলেন মূসা (আঃ) চড়ুই পাখিটা দেখতে পারছ। হযরত মূসা (আঃ) বললে হ্যাঁ দেখতে পারছি। চড়ুই পাখি কি পানি পান করতেছে তা কি দেখতে পারছ। পানি খাওয়ার কারণে খিজির (আঃ) বললেন, হে মূসা (আঃ)। এই পাখিটি তার ঠোঁট দিয়ে নদীর পানি যটুকু কমিয়েছে, আমার আর তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞান থেকে ততটুকুও কমেনি।
এর পর খিজির (আঃ) হঠাৎ একটি কুঠার নিয়ে এসে নৌকার একটি তক্তা উপড়ে ফেললেন। মূসা (আঃ) হঠাৎ দেখতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা উপড়ে ফেলেছেন। তিনি তাঁকে বললেন, আপনি এ কী করলেন? লোকেরা আমাদের মজুরি ছাড়াই নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি ওদের নৌকার যাত্রীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য নৌকাটি ফুটো করে দিলেন? এ তো আপনি একো গুরুতর কাজ করলেন
খিজির (আঃ) বললেন, আমি কি বলিনি, আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য রাখতে পারবেন না?
মুসা (আ.) বললেন, আমি বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলাম। এ জন্য আমাকে দোষ দেবেন না। আমার প্রতি কঠোরও হবেন না। মূসা (আঃ)-এর পক্ষ থেকে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে।
এর পর যখন তাঁরা দুজন নদী পার হয়ে এলেন। তাঁরা অন্য বালকদের সঙ্গে ক্রীড়ারত একটি বালকের পাশ দিয়ে গেলেন। খিজির (আঃ) তার মাথাটি ধরে নিজ হাতে তার ঘাড় থেকে আলাদা করে ফেললেন।
মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটা অন্যায় করলেন।
খিজির (আঃ) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি, আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরে রাখতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বললেন, এর পর যদি আমি আপনাকে আর কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, আপনি আমাকে আর আপনার সঙ্গে রেখেন না। কারণ আপনার ওজর–আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
আবার তাঁরা চলতে লাগলেন। অবশেষে তাঁরা একটি জনপদে এসে পৌঁছালেন। গ্রামবাসীর কাছে তাঁরা খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথ্য দিতে অস্বীকৃতি করল।
সেখানে তাঁরা একদিকে ঝুঁকে পড়া একটা দেয়াল দেখতে পেলেন। সেটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। খিজির (আঃ) সেটি নিজের হাতে সোজা করে দিলেন।
মূসা (আঃ) বললেন, মানুষগুলো এমন যে আমরা এলাম, অথচ তারা আমাদের না দিল খাবার, না দিল আতিথ্য। অথচ আপনি ওদের দেয়াল সারিয়ে দিলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বদলে মজুরি নিতে পারতেন।
খিজির (আঃ) বললেন, এখানেই আপনার আর আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হলো। তবে যে ঘটনাগুলোতে আপনি নিজের ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি, সেসবের রহস্য আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি
খিজির (আঃ)-এর সাথে থাকার সময় মুসা মূসা (আঃ) তাঁর কিছু কাজ দেখে ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি। যেমন:
***একটি নৌকা ভেঙে দেওয়া।
***একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা।
এই ঘটনা থেকে মূসা (আঃ) বুঝতে পারেন যে, বাহ্যিক কার্যকারণের ওপর নির্ভর করে কোনো কিছুকে বিচার করা উচিত নয়, বরং এটি আল্লাহর জ্ঞানের একটি অংশ।
এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, জ্ঞান একটি গভীর এবং ব্যাপক, প্রসারিত বা ছড়ানো বিষয়, এবং এটি মানুষের উপলব্ধির বাইরেও যেতে পারে।
নির্বাহী সম্পাদক-জাফর মাতুব্বর, সহ-সম্পাদক-মোঃআমিনুল ইসলাম
Mobile: +8801611-118649, +8801622-356873,
E-mail: newsajsaradin@gmail.com,ajsaradin24@gmail.com
©নকশী হ্যান্ডিক্রাফট বিডি লিমিটেড এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১০৯,গ্রীণ রোড,ফার্মগেইট, ঢাকা-১২০৫ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।