বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

বাউল আবুল সরকারকে গ্রেফতার কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা?-জাকির তালুকদার

∞জাকির তালুকদার∞ / ১৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

বাউল আবুল সরকারকে গ্রেফতার কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা?
মোটেই না।এটি ইউনূস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সালাফি-ওহাবি মৌলবাদীদের মেটিক্যুলাস প্ল্যানের অংশ।
সুফিরা কোরআনের ভিন্ন তাফসির করেছেন। যেমন সদর উদ্দীন চিশতীর তাফসির। এটি মওদুদী সাহেবের তাফসিরের সাথে মিলবে না। অনেকেই বলেন লালনের তাফসির আছে অলিখিতভাবে তাঁর শিষ্যদের মুখে মুখে। সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে তাঁর গীতিগুলো থেকে বোঝা যায় এমন কিছু থাকতেও পারে।
সুফি-বাউলরা যে তাফসির ব্যবহার করেন তা শরিয়তসর্বস্ব না হয়ে অনেক বেশি মানবিক, মায়াময় এবং লোকজ। একই সাথে তাঁরা জানিয়ে দেন যে নামাজ-রোজার পাশাপাশি যদি হালাল রুজি না হয়, তাহলে সেই ইবাদত শুধু অকার্যকরই নয়, বরং আল্লাহর সাথে প্রতারণারও শামিল।
এই ধরনের কথাই বলেছেন বাউল আবুল সরকার। এবং এই ধরনের কথা আমাদের সমাজের, রাষ্ট্রের, ধর্মের নেতাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। কারণ তাদের অধিকাংশই হজ করেন এবং ঘুষও খান। তাই আবুল সরকারের চুপ করাতে হবে।
বলছিলাম, ৫ই আগস্টের পর থেকে মাজার পোড়ানো, বাউলদের অনুষ্ঠান পণ্ড করা, দেশের বিভিন্ন স্থানে লালন উৎসব করতে না দেওয়া, ওরস-মিলাদের বিরোধিতা করা– সবকিছুই একটি মেটিক্যুলাস প্ল্যানের অংশ। প্ল্যানটা হচ্ছে শরিয়া ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করা।
শরিয়া আইনে পরিচালিত রাষ্ট্র মানে সেখানে কোনো গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না, নারীদের ওপর নেমে আসবে নিষেধের খড়্গ, কোনো সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থাকবে না, ভিন্ন ধর্মের মানুষদের সেখানে থাকতে হবে জিজিয়া কর দিয়ে। এককথায় মধ্যযুগীয় দুঃস্বপ্নের দেশ তৈরি করার নাম হচ্ছে শরিয়া আইনের দেশ।
বাহ্যত এই রকম রাষ্ট্র কায়েমের প্রধান বাধা হচ্ছে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলসমূহ, সাহিত্যকর্মীবৃন্দ, শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ।
কিন্তু এইসব মাজারপন্থি, সুফিপন্থি সাধকরা, বাউলরাও সালাফি-ওহাবিদের কাছে খুব বড় বিপদ। কারণ এই ধারার সাধকরা অনেক বেশি মাটিলগ্ন, কেন্দ্র থেকে প্রত্যন্ত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের খুব প্রিয়, এই সাধকদের ভাষা অশিক্ষিত মানুষরাও বুঝতে পারে। শরিয়া রাষ্ট্র কায়েমের ক্ষেত্রে এই আবুল সরকারের মতো মানুষরা অনেক বড় বাধা।
তাই ইনাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতেই হবে।

লেখক-কথাসাহিত্যিক,রাজনৈতিক বিশ্লেষক,কলাম লেখক
✔লেখাটি লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর