বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

এলডিসি উত্তরণ ও বন্ধন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকারের

Reporter Name / ৫৩ Time View
Update : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

✔তারেক রহমান।।

গাজীপুরের এক ক্ষুদ্র পোশাক কারখানার মালিকের কথা কল্পনা করুন। দশকের পর দশক পরিশ্রম করে তিনি তার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান করেছেন। নুন্যতম মুনাফায় টিকে থেকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কঠিন বাজারে নিজের স্থান ধরে রেখেছেন। হঠাৎ করেই কোনোপ্রকার ঘোষণা কিংবা প্রস্তুতি ছাড়াই তার পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম ধরে রাখার যে শুল্ক–সুবিধা ছিল,তা নিঃশব্দে হারিয়ে যায়। অর্ডার কমতে শুরু করে। ফ্যাক্টরি চালু রাখা, কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা এবং পরিবারের নিরাপত্তা—সবকিছুর উপরেই তখন বাড়তি চাপ নেমে আসে।

এবার নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীর কথা ভাবুন—যার পরিবার অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। তার বাবা গার্মেন্টসে কাজ করেন। সংসার চালানোর জন্য তিনি ওভারটাইম আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রপ্তানিমুখী বাজারে চাপ তৈরি হলে প্রথমেই বন্ধ হয় ওভারটাইম। এরপর কমে যায় শিফট। তারপর শুরু হয় ছাঁটাই। এসব কোনো শিরোনাম হয় না। এগুলো সাধারণ পরিবারের নীরব, অসম্প্রচারিত সংকট।

এসব সিদ্ধান্ত নেবার জন্য তারা কখনো ভোট দেয়নি। তাদের কাছে কেউ মতামতও চায়নি। তাদের প্রকৃত তথ্যও দেখানো হয়নি।

ঠিক সেই কারণেই বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের বিষয়ে বিষদ আলোচনা সরকারি বিবৃতির চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপি আগেই বলেছে—২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের সময়সূচিতে কোনো বিকল্প বা স্থগিতের সম্ভাবনা খোলা না রেখেই এ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে বহু দশক ধরে প্রভাবিত করবে।

আমাদের বলা হচ্ছে, সময় বাড়ানো ‘অসম্ভব’; স্থগিত চাওয়া নাকি ‘অপমানজনক’, যা জাতিসংঘ বিবেচনাও করবে না।
কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন বাস্তবতা দেখায়।

অ্যাঙ্গোলা এবং সামোয়ার মতো কয়েকটি দেশের উত্তরণের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। জাতিসংঘের নিয়মেই বলা আছে—কোনো দেশ বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা খেলে এই সময়সীমায় ছাড় বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া যেতে পারে। তাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যে সিদ্ধান্তগুলো জরুরি, সেগুলোর জন্য অস্থায়ী সরকার কিছু সময় চাইলে সেটিই দায়িত্বশীল আচরণ।

তাহলে কেন আমরা নিজেকে বিকল্পহীন বলে তুলে ধরছি? কেন নিজেদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত করছি?

ডিফারালের সুযোগটি প্রকাশ্যে সরিয়ে দিলে আমরা নিজেরাই আমাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল করে ফেলি। আন্তর্জাতিক আলোচনায় আমরা তখন আগেই সব কার্ড দেখিয়ে বসি—আলোচনা শুরুর আগেই নিজেদের সুবিধা হারাই।

সরকারের নিজের নথিপত্রেই স্বীকার করা হয়েছে যে—বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখন ব্যাংকিং সেক্টরের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি কমে যাওয়ার চাপ অনুভব করছেন।

এটা এলডিসি উত্তরণের বিরোধিতা নয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে—এটা সত্য। কিন্তু ‘যোগ্য’ হওয়া আর ‘প্রস্তুত’ হওয়া এক বিষয় নয়।

আমার মতে, প্রকৃত জাতীয় শক্তি হলো প্রশ্নহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; বরং এমন শৃঙ্খলা রাখা—যাতে কঠিন প্রশ্নগুলো সময়মতো করা যায়, যাতে পরবর্তীতে খরচ অপূরণীয় না হয়ে যায়।

এখন চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে তাকান—এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। সেখানে যা ঘটে, তার প্রভাব লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে পড়ে—যেকোনো রাজনৈতিক বক্তৃতার চেয়েও বেশি।

সম্প্রতি বন্দরের যে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে—এগুলো সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়। এগুলো জাতীয় সম্পদের ওপর কৌশলগত প্রতিশ্রুতি, যা একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিচ্ছে—যাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমন সিদ্ধান্তে বাধ্য করার গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রে যা ঘটছে, এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রেও তাই দেখা যাচ্ছে। কৌশলগত বিকল্প হ্রাস পাচ্ছে। জনমতকে গুরুত্বহীন মনে করা হচ্ছে। যৌক্তিক উদ্বেগকে ‘গতি’ এবং ‘অপরিহার্যতা’র নামে পাশ কাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই: এটি কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করার বিষয় নয়। এটি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার বিষয়—এবং সেই নীতিকে সম্মান করার বিষয় যে, যেসব সিদ্ধান্ত বহু দশকের জাতীয় ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেয়, সেগুলো এমন সরকারের নেওয়া উচিত—যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করে।

কেউ বলছে না যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে না, বা বন্দরে সংস্কার হবে না। বিষয়টি আরও সহজ, আরও মৌলিক: একটি দেশের ভবিষ্যৎ এমন সরকারের দ্বারা নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়, যাকে সেই দেশ নির্বাচিত করেনি।

কৌশলগত ধৈর্য দুর্বলতা নয়। জনপরামর্শ বাধা নয়। গণতান্ত্রিক বৈধতা কোনো বিলম্ব নয়। আর আমার মতে—সবকিছুর নিচে যে সত্যটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—বাংলাদেশের মানুষ কখনই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারা সম্মান, নিজের মত প্রকাশ, এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার—এসব বিশ্বাস করে বলেই কষ্ট সহ্য করেছে।

তাদের চাওয়া খুবই সহজ: তাদের কথা শোনা হোক, অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হোক, এবং তাদের মতামতকে সম্মান করা হোক।

আর ঠিক এই কারণেই অনেকেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে নিয়ে আশাবাদী—এই একটি সুযোগ, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মত করে বলতে পারবে, নিজের ভবিষ্যৎ নিজে বেছে নিতে পারবে, এবং একটি সহজ সত্য আবারও প্রতিষ্ঠা করতে পারবে:
এই দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করবেন এই দেশের মানুষই—যারা বিশ্বাস করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

তারেক রহমান

লেখক
রাজনৈতিক জাতীয় নেতা,রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর