রাজনীতির মাঠে আগামীর সম্ভাবনা;জুলাই যোদ্ধা জুয়েল এর খোঁজ রাখেনি কেউ!











মুহাম্মদ জুয়েল।বিএসএস অনার্স (অর্থনীতি)—
ন্যায়, সাহস ও ত্যাগের উপর দাঁড়ানো যার রাজনৈতিক যাত্রা।
তার সবচেয়ে বড় প্রকৃত পরিচয়—
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা একজন লড়াকু মানবিক রাজনৈতিক,সামাজিক ব্যক্তিত্ব।রাজপথেই বেড়ে ওঠা একজন মৌলিক গুণাবলি সম্পন্ন মানব সেবক জুয়েল।
জুলাই আন্দোলনে আমার নাম আছে রক্তে,ঘামে,লড়াইয়ে-জুয়েল
এছাড়াও তিনি আজ সারাদিন এর সাথে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ➤
জুলাই আন্দোলন ছিলো বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক জাগরণের মূল কেন্দ্র বিন্দু।
এ আন্দোলনে আমি শুধু অংশই নেইনি বরং
আমি নেতৃত্ব দিয়েছি রাজপথে।
রামপুরা, মেরাদিয়া, বাংলামোটর, মিরপুর—
প্রতিটি পয়েন্টে ভূমিকা রেখেছি সামনে থেকে।
শেষের দিনগুলোতে আমি ঘরে ফিরিনি—
রাজপথই ছিল আমার ঠিকানা।৫ আগস্ট রাত ১১ টার দিকে যখন বাড়ীতে ফিরি মা জিজ্ঞেস করলো তুই ভালো আছিস?
বলে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলতেছিলেন আমরাতো ভেবেছিলাম তোকে আর দেখতে পাবো না।তবে একজন যোদ্ধার মা হিসেবে শহীদ জননী হিসেবে পরিচয় পাওয়াটুকু নিয়ে আমৃত্যু তোর জন্য দুচোখের অশ্রু ঝাড়াতাম!
মা ছেলের এই আবেগঘন মুহুর্তের স্বাক্ষী ছিলেন প্রতিবেশী, আত্মীয় সহ জুয়েল কে বাসায় নিয়ে সাংবাদিক আমিনুল ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ হাওলাদার।
সেদিন হানিফ হাওলাদারও মা ছেলের এই আবেগঘন মুহুর্তে নিজেকে সামলাতে পারেননি।
হাউমাউ করে কেঁদে দিয়েছিলেন তিনি।
শেষ দিন তথা বিজয়ের দিন (৫ আগস্ট ২০২৪) যাত্রাবাড়ীতে সরাসরি হামলার শিকার হন।আঘাতে মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছিলো,পা দিয়ে ঠিকমতো হাটতে পারছিলো না জুয়েল।খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান এই নেতা।তিনি বলেন আমার শরীর থেকে রক্ত ঝরছিলো,ওটা মাথায় নেননি,মনোবল ভাঙেননি।বলছিলেন সামনে আগাও।যুদ্ধ যখন নেমেছি ফিরবো হয় বিজয় নিয়ে নয়তো লাশ হয়ে′
′′সাংবাদিক আমিনুল ভাই,হানিফ ভাই,আমার বন্ধু হাসান আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিশেষ করে আমাদের গ্রুপকে পানি,শুকনা খাবার,কখনো বাসার রান্না করা খিচুড়ি পলিথিনে প্যাকেট করে সাংবাদিক আমিনুল ভাই,এজাজুল ও তরিকুল মোটরসাইকেলে এসে দিয়ে যেতেন।তাদের মোটরসাইকেলে পত্রিকার নামের স্টীকার থাকার পরও ঝুঁকি ছিলো,পথে পথে বাঁধা ছিলো।তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের ফাঁকে আমিনুল ভাই ও তরিকুল ভাই ও তাদের সাথে থাকা দুজন নিজেদের খাওয়ার নাম করে কখনো পলিথিনে,কখনো টিফিনবাক্সে খাবার দিয়ে যেতেন।
তাদের মানবিকতা প্রমাণ করে
সত্যিকারের দেশপ্রেম,আদর্শ ও মানবিক রাজনীতি মানুষের ভালোবাসায় টিকে থাকে।এটা থাকবে ইনশা আল্লাহ।′′“আওয়ামী লীগের ভয়াবহ দুঃশাসনেও থেমে থাকেননি
জুয়েল।“যখন মানুষ চুপ ছিলো,ভয়ে ছিলো, পিছিয়ে ছিলো—
তখন আমি নিজের নাম–পরিচয়–নিরাপত্তা সব ভুলে গিয়ে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি।এমনটাই বলছিলেন জুলাই যোদ্ধা জুয়েল ”কারো নির্দেশে নয়,
কারো স্বার্থে নয়—
আমি লড়েছি মানুষের জন্য, ন্যায়ের জন্য, দেশের জন্য।
তবে আমি সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি কিন্তু কোনোকিছু পাওয়ার আশায় নয়।তবে সম্মান,পরিচয় এটুকুও কী আমার প্রাপ্য নয় বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন জুলাই যোদ্ধা জুয়েল।কোটা আন্দোলনে ডেমরা থেকে তিনিই প্রথম ০৫ সদস্যের একটি টীম গঠন করেন।আন্দোলনে প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
যেখানে অনেকেই ভয় পেয়েছিলো,
অনেকে মুখ খোলেনি—
সেখানে আমি সামনে দাঁড়িয়ে বলেছি:
দ্বাবি মানতে হবে-নইলে গদি ছাড়তে হবে
“অপরাধীর বিচার হবে—সে যতবড় ক্ষমতাবানই হোক।”এটাই আমার রাজনীতি।
এটাই আমার চরিত্র।এটা আমার মানবপ্রেম,এটা আমার দেশপ্রেম।আমি মানুষের পক্ষে,মানুষের জন্যে এবং মানুষের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি।আজীবন এ কাজটি আমি করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু কষ্টের জায়গা একটাই—এত ত্যাগের পরও আমাদের মূল্যায়ন করা হয়নিআমরা যারা সত্যিকারের মাঠে লড়েছি,
জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম,
মানুষের অধিকার রক্ষায় রক্ত ঝরিয়েছি—আজও আমাদের দিকে কেউ সঠিকভাবে তাকায়নি।
আমাদের ত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।কিন্তু আমি হতাশ নই—
আমি জানি, যিনি মানুষের জন্য লড়েন, তাকে একদিন মানুষই নেতৃত্বে আনেন।আর ইতিহাসে সেটা চিরস্থায়ী হয়।আমি নেতৃত্ব চাই ক্ষমতার জন্য নয়—মানুষের জন্য
নেতৃত্ব আমার কাছে কোনো চেয়ার নয়—
নেতৃত্ব আমার কাছে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের নাম।আমি এমন কাজ করি ও ভাবিষ্যতে করতে চাই—
যে মানুষের দুঃখে কষ্টে ভালোমন্দে আগে আমি ছুটে যাবো,মানুষকে আমার কাছে আসতে হবে না।
আমি চাই যে বা যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামনে দাঁড়াবে।নিজের কোনো ভূল হলে নিজে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবে।
যে বা যারা রাজনীতি করবে দেশের এবং জনগণের জন্য।এমন একটা সঠিক সুদৃঢ় মনোভাবাপন্ন গ্রুপ দেশ শাসন করবে।বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন এ সরকার আমাদের জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করার ফসল।
এখন সময় এসেছে আমাদের মতো সত্যিকারের ত্যাগী কর্মীদের সামনে আনার।
যারা রাজপথে লড়েছে, তারাই আগামী দিনের নেতৃত্বের যোগ্য।
জুলাই ফাউন্ডেশন, সহায়তা,এনসিপির রাজনীতি সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি।
শুধু একটা সত্য পরিচয় এর জন্য তিনি ও তার সাথে থাকা যোদ্ধারা দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।
নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেও কাগজপত্র দেখানোর সুযোগ পাইনি।তবে সেসব নেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তিনি গণমাধ্যমকে পরবর্তীতে জানাবেন বলে,বলেন এবার শেষ চেষ্টাটা করে তারপর মিডিয়ার মুখোমুখি হবো ইনশাআল্লাহ।সবশেষে জুয়েল বলেন,আমি নেতৃত্ব দিয়ে আসছি ও কাজ করছি মানুষের জন্য, ন্যায়ের জন্য,দেশের ভবিষ্যতের জন্য ও আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি।আমার ধনসম্পদ নেই।তবে মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আছে,আমার সাথে একঝাঁক তরুণ আছে।এই তারণ্যের অদম্য স্পৃহা সম্পন্ন ন্যায়ের শক্তিই আমার ও দেশের সম্পদ।এদের নিয়েই আমার পথচলা।উদ্দেশ্য সৎ
এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে -যেতে হবে অনেক দূর।ইনশাআল্লাহ।।












