জিয়া হায়দার রহমান এবং তাঁর রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক ধারণা
“Literary art requires certain positive conditions to flourish. The conditions of a healthy literary culture, precisely the conditions of a healthy political culture,” –Zia Haider Rahman
উপরের কথাগুলো বাংলা একাডেমিতে দেয়া জিয়া হায়দার রহমানের কথার একটি অংশ। এরপর তিনি একথাও বলেছেন: তবে ব্যতিক্রম আছে, কিন্তু ব্যতিক্রমটা নিয়ম (Rules) নয়। তাঁর ওই কথার সাথে আমার ঘোরতর দ্বিমত আছে। উন্নত বিশ্বের, অর্থাৎ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে সুখী দেশগুলোয় সেরা বা প্রতিভাবান লেখকের আবির্ভাবের দৃষ্টান্ত খুব কম। বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাদপদ দেশগুলোতেই প্রতিভার আবির্ভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। রবীন্দ্রনাথ তো ইংরেজ কর্তৃক নিপীড়িত ভারতবর্ষেই আবির্ভূত হয়েছিলেন, এমনকি নজরুল, জীবনানন্দও। ফরাসি ভাষায় ভলতের, রুশো, দেনিস দিদরো, কিংবা জার্মান ভাষায় কাফকা, কিংবা আয়ারল্যান্ডে ইয়েটস বা জেমস জয়েস কি অনুকূল রাজনৈতিক সংস্কৃতির সন্তান ছিলেন? ওই দেশগুলোয় তখন সাহিত্যিক সংস্কৃতি কতটা হেলদি ছিল সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। গত শতকে লাতিন আমেরিকার যেসব দানবীয় প্রতিভার আবির্ভাব ঘটেছে, সে মেক্সিকো, পেরু, চিলে, আর্জেন্টিনা, নিকারাগুয়া যাই বলি না কেন, এই দেশগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কী এমন স্বাস্থ্যোজ্জ্বল? আমি তো বলবো, বরং উল্টো অবস্থাই বিরাজমান ছিল। লাতিন আমেরিকার প্রায় প্রত্যেকটা দেশে যে-সব একনায়ক ও তাদের নিষ্ঠুর নিপীড়নের কথা জানা যায় তা রীতিমত অবিশ্বাস্য।











