‘নুরু নাকি মামুন’ এ নিয়ে গলাচিপায় মারামারির অভিযোগ
পটুয়াখালীতে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কপালভেড়া বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় একে অপরের ঘাড়ে দোষ দিলেও কিছু নেতাকর্মী বলছেন, বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর পটুয়াখালী-৩ আসনটি ফাঁকা রাখে। এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নির্বাচন করতে পারেন। তবে প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়া নিয়ে তর্কের জেরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। তারা আরও বলেন, বেশ কিছু দিন হলো আসনটির সম্ভাব্য দুই প্রার্থীকে নিয়ে সোশ্যালে তির্যক মন্তব্যও চালাচালি হচ্ছিলো।
এদিকে সংঘর্ষের পর রাত একটার দিকে আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনও পুরোপুরি জানি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছিলেন। আমরা প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি। সাত নভেম্বর প্রোগ্রাম নিয়ে নেতাকর্মীরা সংগঠিত হচ্ছিলেন। সেই কর্মসূচি ব্যাহত করার উদ্দেশে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘটনা তদন্তসহ দোষীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
অপরদিকে, স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, চরশিবা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কমিটি গঠন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কপালবেড়া বাজারে গণঅধিকারের সভা ছিলো। সভায় বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। অন্যদিকে, সাত নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গলাচিপায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের আগমনে রাতে শুভেচ্ছা মিছিল করে চরশিবা ইউনিয়ন বিএনপি। একদিকে সভা শেষ করে গণঅধিকার নেতাকর্মীরা ফিরছিলো। অন্যদিকে মিছিল শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরাও বাড়ি ফিরছিলো। পথে দক্ষিণ কাপালবেড়া চৌরাস্তা বাজারে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সভায় লোক উপস্থিত হওয়া নিয়ে তর্ক হয়। এসময় বিএনপির নমিনেশন হাসান মামুন পাবে, নাকি গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর পাবে এ নিয়ে তাদের তর্ক হয়। এক পর্যায়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
চরকাজল ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস রাঢ়ী বলেন, মামুন ভাইয়ের সাত নভেম্বরের প্রোগ্রাম উপলক্ষে আমরা শুভেচ্ছা মিছিল করছিলাম বাজারে। মিছিল শেষে ছেলেরা বাড়ির দিকে ফিরছিলো। তখন খলিফা বাড়ির লোকজন (তার ভাষ্যমতে, যারা আগে আওয়ামী লীগ করতো, এখন গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত) তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, মামুন ভাই আগামীকাল আসবেন, তার প্রোগ্রামের পর দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। কিন্তু ওরা বলল, মামুন ভাই নাকি নমিনেশন পাবেন না, গণঅধিকার পাবে, এই কথা বলেই আমাদের ওপর হামলা করে।
অন্যদিকে, চরকাজল ইউনিয়ন যুব অধিকারের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সোহেল খলিফা বলেন, আমরা গণঅধিকার পরিষদের সভা শেষে ফিরছিলাম। বিএনপি কর্মীরা আমাদের ডাক দিয়ে হামলা শুরু করে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
গত তিন নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তবে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এ নিয়ে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই দলের নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র মন্তব্য করে আসছেন।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি দুই পরিবারের বিরোধ, যারা ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক। উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখনও কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।










