শুরু হলো আন্তঃলেনদেন, অনুমোদন হয়নি নগদের সময় চায় বিকাশ
দেশে ব্যাংক, মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মধ্যে ইন্টারঅপারেবল বা আন্তঃলেনদেন সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় দুই এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদ এই সেবার বাইরে রয়েছে। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির অভাবে বিকাশ তিন মাস সময় চেয়েছে, আর নগদ এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়েই নতুন এই প্ল্যাটফর্ম চালু করতে হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আজ সারাদিনকে বলেন, বিকাশের সিস্টেম এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়, তাই তারা আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। অন্যদিকে নগদের অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, যা পরবর্তী ধাপে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রাথমিকভাবে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে এই ইন্টারঅপারেবল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে নগদের লাইসেন্স জটিলতা ও বিকাশের প্রস্তুতির অভাবে শেষ পর্যন্ত ১০টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই সেবা চালু হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট, ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ, দুটি পিএসপি এবং বেশ কয়েকটি ব্যাংক। আরো পাঁচটি প্রতিষ্ঠান খুব শিগগিরই যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে ঘোষণা দেয়— ১ নভেম্বর থেকে ব্যাংক, এমএফএস ও পিএসপিগুলোর মধ্যে ইন্টারঅপারেবল লেনদেন চালু হবে।
এ লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন গ্রাহক সহজেই এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে, বা এক এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য এমএফএসে টাকা পাঠাতে পারবেন। ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক ও এমএফএসের মধ্যে লেনদেন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০২২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পৃক্ততায় ‘বিনিময়’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়।
সেই প্ল্যাটফর্মে বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ ও টালি পে ছাড়াও বেশ কয়েকটি ব্যাংক যুক্ত ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর জানা যায়, ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্মের মালিকানা ছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পাঁচটি শেল কোম্পানির হাতে। এ বিতর্কের পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
নতুন ইন্টারঅপারেবল লেনদেন ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে। তবে বিকাশ ও নগদ-এই দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আপাতত যুক্ত না থাকায় সাধারণ গ্রাহকের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা সীমিত হতে পারে।












