আজ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১৮ বছর
আজ ১লা নভেম্বর, ২০২৫।বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১৮ বছর তথা দেড় যুগ পূর্ণ হলো।
২০০৭ সালের এই দিনে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়। এর মাধ্যমে “বিচার” ক্যাডার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) থেকে আলাদা হয়ে যায়।তৈরি হয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস(বিজেএস)।
এ প্রসঙ্গে এক বিজিএস অফিসার জানান, অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন কোন বিসিএস দিয়ে এসেছি। আমরা বিসিএস না দিয়েই এসেছি।তখন আমরা গর্ব করে বলতে পারি আমাদেরটা বিজেএস – বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস।
এছাড়া ১৮ তম বিজিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা ১৮ বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেবেন আজকে ১লা নভেম্বর – আপনারা লাকি। বিচার বিভাগের খুব স্পেশাল একটা দিনে আপনারা পরীক্ষা দেবেন। মাঝে মাঝে চাকরিতে কাজ করতে করতে একঘেয়েমি আসে। কিন্তু যখন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি তখন ভালো লাগে, ভারমুক্ত লাগে। মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মত ভালোলাগা খুব কম কাজেই আছে।কাজেই মানব সেবার ব্রত নিয়ে এই পেশায় আসুন।
সৃষ্টিকর্তা একমাত্র বিচারক সেখানে মানুষ হয়ে মানুষের বিচার করবো, কত বড় দায়িত্ব! নিজের অনেক অপ্রাপ্তি, খারাপ লাগার বিচার কোথাও দিতে পারিনা, কিন্তু অন্য অনেকের পাওনা হকের বিচার চাইতে যখন কেউ আমার কাছে আসে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করি তাকে তার প্রাপ্য সবটুকু প্রতিকার দিতে।
বিচার কাজের সাথে জড়িত প্রতিটি মানুষের সৃষ্টিকর্তার কাছে আলাদা দায়বদ্ধতা আছে। আইনজীবী হিসেবে যদি আপনি ভাবেন আমি তো আর বিচারক না দুনিয়ায় স্রষ্টার প্রতিনিধিত্ব করার দায় ও আমার না, বিচারের দায় আমার না তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। পুরো বিচার ব্যবস্থাই আপনাদের ওপর নির্ভরশীল। একজন আইনজীবীর ভুলেও একজন মানুষ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি আদালত প্রাঙ্গণের প্রতিটা স্টাফের দায়বদ্ধতাও একেবারে কম নয়। শুধু বিচার নয়, প্রতিটা ক্ষেত্রেই আপনার নিজের কর্মের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা উচিত।কারণ দিনশেষে সবারই একদিন বিচার হবে।
উল্লেখ্য ১/১১-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ঠিক আগের দিন ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত চারটি বিধিমালা সাত দিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। যদিও জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (সার্ভিস গঠন, সার্ভিস পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাস্তকরণ, বরখাস্তকরণ ও অপসারণ) বিধিমালা, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলাবিধান এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী) বিধিমালা, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (পে-কমিশন) বিধিমালা সংক্রান্ত মামলা তখনও বিচারাধীন। পরদিন ক্ষমতা দখল করেই বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার ঘোষণা দেয় সেনা সমর্থিত নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এরপর ১৬ জানুয়ারি তারা ওই বিধিমালা চারটি জারি করে। এগুলো বলবৎ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগের সরকারের তৈরি করা বিধিগুলো বিলুপ্ত হবে বলে বিধান রাখা হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ ১৭ জানুয়ারি ২০০৭ দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কাজ শুরু করেন। উপদেষ্টা পরিষদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের পর ২৯ অক্টোবর ২০০৭ সালেফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ১৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এম রুহুল আমিন ও সরকারের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার জন্যে ১ নভেম্বর তারিখ ঘোষণা করেন। এরপর ৩১ অক্টোবর পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সরকার প্রধান ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ তার সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন।












