দেশে যখন বড় মেগা প্রজেক্ট গড়া হয়, বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোয় তারা নিজের দেশের প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে করে একটি স্বতন্ত্র সার্ভে—কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইনভেস্টিগেশন (QC&I) গঠন করে। তাহলে আমাদের বড় কয়েকটি প্রকল্পে এমন কোন গঠন হয়েছে?
ইতিহাস এই প্রশ্নের জবাবে নীরব। বলা হয়—“প্রকৌশলী নেই।” কিন্তু এ কি বাস্তব নাকি কেবল পর্দার আড়াল ঢেকে রাখার জন্য তৈরী করা মিথ্যাবানী? কারণ যদি প্রকৌশলী ও স্বাধীন গুণগতঃনিরীক্ষা থাকতো, সচিবালয়ে যে কোটি কোটি টাকার বল্টন ঘোরে—তার অনেক তথ্যই প্রকাশ পেত। আর দুর্নীতির এই প্রবাহ তখন অসংগঠিতভাবে আরও ধরা পড়ত।
এক কথায় সমস্যা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও প্রশাসনিক স্বার্থসংগ্রাম। দুর্নীতি নজরকারি করার দফতরগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত—তারা কি সত্যিই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তির মুখে স্বাধীনভাবে কাজ করবে? না। ফলে সরকার বিদেশি ঠিকাদারদের হাতে কাজ বণ্টন করে—কারণ “কেউ টের পাবে না” — অথচ এই হাত বদলই দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী-ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা ক্ষুণ্ন করে। তাহলে BUET, CUET, RUET–এর দরকার কী? আছে, কিন্তু তাদের ক্ষমতা ও পরিবেশ ব্যবহার করার সুযোগই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
আর সবচেয়ে বিপজ্জনক পয়েন্ট—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আছি-না ব্যাপার। যেসব সচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা প্রায়শই মানবিক বা প্রশাসনিক পটভূমির লোক; তাদের কাছে প্রযুক্তিগত ধারণা বা বিজ্ঞানমনস্ক নীতি অনুপস্থিত—এটাই জটিলতার মূল। ফলে পরিকল্পনাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি হয় না; মেগা প্রকল্পগুলো হয়ে ওঠে কাগজের মুকুটভ ইনভেস্টমেন্ট—কাজ নয়।
প্রস্তাবিত সমাধান (কার্যকর ও বাস্তবসম্মত)
১) স্বতন্ত্র ভেরিফিকেশন কমিটি গঠন করো — জাতীয় স্তরে একটি স্বাধীন Quality Control & Investigation Commission (QCIC) গঠন করতে হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সমিতি (আইইবি), সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকৌশলীরা এবং নাগরিক সমাজ থাকবে।
২) প্রকল্প-স্তরে সালিশি সার্ভে বাধ্যতামূলক করো — প্রতিটি মেগা প্রকল্পের আগে ও পরে স্বাধীন সার্ভে রিপোর্ট প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
৩) প্রফেশনাল অডিট ও পাবলিক ডিসক্লোজার — বাজেট, কনট্রাক্ট, সাবকনট্রাক্ট, ল্যাব রিপোর্ট সবাই অনলাইনে প্রকাশ।
৪) প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানদের ক্ষমতায়ন — BUET/ RUET–কে প্রকল্প পরামর্শক হিসেবে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি; স্টুডেন্ট ইন্টার্নশিপ ও ল্যাব সাপোর্ট নিশ্চিত করা হবে।
৫) দূর্নীতি দমন সংস্থার রূপান্তর — দুর্নীতি কমিশনকে প্রযুক্তিগত মামলায় স্বাধীন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত তদন্ত ক্ষমতা দিন; রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন।
৬) পেশাগত নিয়োগ ও সচিবপদে টেকনিক্যাল যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করো — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নিয়োগে প্রযুক্তিগত যোগ্যতা থাকা জরুরি।
৭) হটলাইন ও whistleblower সুরক্ষা — তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে whistleblower-কে সম্পূর্ণ সুরক্ষা; তাদের অভিযোগ তদন্ত ও ফলাফল প্রকাশ হবে।
সম্পাদনায়:আদিল সাদ
নির্বাহী সম্পাদক-জাফর মাতুব্বর, সহ-সম্পাদক-মোঃআমিনুল ইসলাম
Mobile: +8801611-118649, +8801622-356873,
E-mail: newsajsaradin@gmail.com,ajsaradin24@gmail.com
©নকশী হ্যান্ডিক্রাফট বিডি লিমিটেড এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১০৯,গ্রীণ রোড,ফার্মগেইট, ঢাকা-১২০৫ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।