হিমালয়ান পিংক সল্ট জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুকি;কৌশলে ভোক্তাকে খাওয়ানো হচ্ছে এই লবণ
হিমালয়ান পিংক সল্ট হলো খনিজ লবণ যাতে 96% থেকে 98% সোডিয়াম ক্লোরাইড ও 2% থেকে 4% ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এসব থাকে।এই লবণের দাম সাধারণ লবণে চেয়ে বিশগুন বা তারো বেশি।তবে এতে আয়োডিন থাকে না। এটা নিয়মিত খেলে আপনার গলগন্ড হবার সম্ভাবনা বাড়বে। এটা আমরা যে লবণ খাই সেই একই লবন, ২-৪% ভেজাল সহ।
এক কেজি পিংক লবণ ১৫৫০ টাকা। এক কেজি আয়োডাইজড লবণ ২৯ টাকা। ৫০ গুন।
এটাকে আলাদা করে হিমালয়ান বলার যুক্তি নাই। এটা পাঞ্জাবের পাকিস্তান অংশে খনি থেকে তোলা হয়। এটাকে পাইক্কা বা পাকিস্তানি গোলাপি লবণ বা পাঞ্জাগোলাপি লবণ বলা বেশি সঠিক।
হিমালয়ান বলা হয় মার্কেটিং করার জন্য।
এই লবণ দিয়ে ডেকোরেটিভ ল্যাম্প বানানো হয়।বড় খন্ড কাটিং স্ল্যাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এই লবণ দিয়ে স্পা করানো হয় ও এটা দিয়ে শটগ্লাস বানিয়ে টাকিলা পান করা হয়।মদপিয়াসিরা বলে এতে হালকা লবণ টাকিলাতে চলে আসায় নাকি টাকিলার স্বাদ বেড়ে যায়।
ল্যাম্পওয়ালারা আরেক ধাপ এগিয়ে। তাদের বাতি থেকে নাকি আয়ন বের হয়ে আপনার জীবনকে দুশ্চিন্তামুক্ত ও শরীরকে রোগমুক্ত করে দেয়।
ভাগ্য ভালো ল্যাম্পটাই রোজ চেটেপুটে খেতে বলে না।
আমেরিকার এফডিএ পরিস্কার বলেছে এই লবণের কোন আলাদা স্বাস্থ্যগত প্রভাব বা উপকারিতা নাই।বরং এটা ভেজালযুক্ত সাধারন লবণ।
এই লবণের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা দাবী একটি প্রতারণা।
যে কোন প্রতারণামূলক ঔষধির একটা সাধারণ বৈশিষ্ট হলো, তাকে যৌনশক্তিবর্ধক বলে দেয়া। এটাকেও এরকম বলা হয়। আরো বলা হয় এটা দিয়ে স্পা করলে ত্বক নতুন হয়ে উঠবে। এসবই ভুয়া কথা।
কোন রোগ সারানোর জন্য এই পাথুরে লবণ খাওয়া ঠিক না।এইটা পাকিস্তানি পাথুরে লবণ;আর কিছু নাএটার সাথে আমাদের টেবিলে যে লবণ থাকে, তার কোন পার্থক্য নাই।(ভেজালটুকু বাদে)
সিংগাড়াতে বা এ জাতীয় খাবারে যে বিটলবণ দেয় এইটা সেই লবণ এর কেমিক্যাল কম্পোজিশনে ফ্যাক্টরিতে বানানো লবন।সেখানে এই রক সল্ট মেশানো থাকে।
হিমালায়ান বললে হেলথ ফিটনেস ওয়েলনেস লাইফস্টাইল সব চলে আসে।
সখিনা কে সাকিনা আর জরিনা কে জারিনা বলার মতো বিষয়টা। কড়াইল বস্তিতে জরিনা, গুলশানে এলে জারিনা।
আর এটা বেশি খেলে এর মধ্যে থাকা ফ্লুরাইড দীর্ঘমেয়াদে বিষক্রিয়া করে। ক্যান্সারও হয়।












