মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা( Muhammad Yunus) মহোদয়,
সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন। আমি রাসেল ইব্রাহীম। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর থেকে বলছি। আমার মতো একজন নগণ্য শিক্ষকের এই অগোছালো খোলা চিঠি আপনার দৃষ্টিতে আসবে কি না, জানিনা। অভাবে এবং লজ্জায় গা কাঁপছে। শিক্ষক এবং লেখক হিসেবে লিখেই অন্যরকম ভালোলাগা ফিল করি, তাই লিখেছি ।
স্যার, আপনি বাংলাদেশের একমাত্র গ্লোবাল হিরো ও প্রিয় মাতৃভূমির প্রথম নোবেলজয়ী। আপনি একজন শিক্ষক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। একজন শিক্ষক নোবেল পুরস্কার পেয়েছে এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, শিক্ষক হিসেবে এই আনন্দের ভাগিদার আমিও। আর আপনি প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর আমাদের সেই আনন্দ অন্য এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
আমি সামান্য বেতনের একজন স্কুল শিক্ষক। শিক্ষকতা করি এবং জাতি গড়ার কারিগর, এটা ভাবলে প্রাউড ফিল করি। কিন্তু বেতন কত, সেটা মাথায় এলে কেঁদে শরীর ভিজাই। নিজেকে নিজে ধিক্কার দেই, কেন শিক্ষকতা পেশায় এসেছি!অন্তরবর্তীকালীন সরকারের অনেকেই শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ছিল। তাঁরা শিক্ষাবান্ধব হবেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন, এরকম স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে কি?
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আপনাকে পেয়ে আমাদের স্বপ্ন এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল । স্বপ্ন দেখি পুরোপুরিভাবে শিক্ষকতা করব।আগের দিন রিসার্চ করব এবং পরের দিন স্কুলে টিচিং দেব। কিন্তু সেটা অসম্ভব। বেতন ১২৫০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে কীভাবে সংসার চালাব, একটা দিকনির্দেশনা চাই। নিজের পকেট খরচ চালিয়ে মাসের ১০/১২ দিন পরে সংসারে দেওয়ার মতো আর তেমন টাকা থাকে না, লজ্জায় মুখ লুকাই। মাস শেষে আমাদের করণীয় কী? শিক্ষক হয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি কোচিং ব্যবসায়ী হব? ক্লাস সেভেন(২০০৮) থেকে টিউশনি করি, আর কত করব? শিক্ষক হিসেবে গর্বের সাথে পরিচয় দেওয়ার সুযোগ দেবেন কি? শিক্ষকদের চিৎকার শুনতে আপনারা কি প্রস্তুত?
আপনি বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সম্পর্কে আমাদের চেয়ে ভালো জানেন। থার্ড ক্লাসের বেতন দিয়ে ফার্স্ট ক্লাসের সার্ভিস প্রত্যাশা করা যায় কি? বিবেচনা করার অনুরোধ, সবিনয় অনুরোধ।
আপনারা ক্ষমতায়, তাই মতামত প্রকাশ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি; যা আগে ছিল না। এইটুকু সুযোগ দেওয়ায় আন্তরিক ধন্যবাদ। অল্প সময়ে বেশি পরিবর্তন অসম্ভব। যা করেছেন, তা কোনো অংশে কম নয়।যেহেতু শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, সেহেতু জাতির উন্নয়নে শিক্ষা নিয়ে আপনাদের পদক্ষেপ চাই। আর পুরাতন শিক্ষাব্যবস্থা বাতিল করার জন্য পুনরায় ধন্যবাদ।
যাইহোক,বাড়ি ভাড়া(বেসিকের ২০%), চিকিৎসা ভাতা(১৫০০) বাড়ানো,কর্মচারীদের উৎসব ভাতা(বেসিকের ৭৫%) বৃদ্ধি সহ নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এবং অন্যান্য সুযোগ- সুবিধা দিয়ে শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করে পুরোপুরি শিক্ষকতা করার সুযোগ দেবেন, আপনার কাছে এবং আপনার সরকারের কাছে সেটাই প্রত্যাশা করি। আর অর্থাভাবে ফিউচারে যদি শিক্ষকতা ছেড়ে দেই কিংবা অন্যরা ছেড়ে দেয়, তাহলে সেটার জন্য আপনারাও দায়ী। উত্তরের প্রত্যাশায় রইলাম।
রাসেল ইব্রাহীম
কবি ও গীতিকার
সহকারী শিক্ষক, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।
লেখাটি লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত।
আজ সারাদিন এ লেখায় কোন সংশোধন পরিমার্জন করেনি
নির্বাহী সম্পাদক-জাফর মাতুব্বর, সহ-সম্পাদক-মোঃআমিনুল ইসলাম
Mobile: +8801611-118649, +8801622-356873,
E-mail: newsajsaradin@gmail.com,ajsaradin24@gmail.com
©নকশী হ্যান্ডিক্রাফট বিডি লিমিটেড এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১০৯,গ্রীণ রোড,ফার্মগেইট, ঢাকা-১২০৫ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।