আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস;আমাদের খাদ্য কতটা নিরাপদ?
।।আমিনুল ইসলাম।।
মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে খাদ্য।’মানুষ যা কিছুই করে তা পেটের দায়ে’ এ প্রবাদটি যুগ যুগ ধরে মানুষের মধ্যে প্রচলিত।কিন্তু সেই খাদ্য,যা আমাদের খুদানি বরণ করে যে খাদ্যের জন্য মানুষের মন প্রাণ উজাড় করে মেধা মস্তিষ্ক খাটিয়ে পরিশ্রম করে প্রতিটি দিন পার করতে হয়।আমরা যে খাদ্য খাচ্ছি তা কতটা নিরাপদ এ নিয়ে ভাবনার সময় আমাদের নেই!বাংলাদেশের খাদ্য ও পানীয় শতকরা ৮০ ভাগ রোগ সৃষ্টির মূল।
একটি মানবশিশু মাতৃগর্ভ থেকে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করা শুরু করে তার জীবদ্দশার শেষ সময় পর্যন্ত ভেজাল খাবার খেয়েই যেতে হয়।আমাদের দেশে ভেজাল খাদ্য খেয়ে জীবন কাটাতে হয়।ভেজাল খাদ্য গ্রহণ আমাদের কাছে সংস্কৃতি হয়ে গেছে!এমন বহু মন্তব্য পথে-ঘাটে বাজারে বন্দরে সাধারণ মানুষের মুখে শোনা যায়।
বর্তমানে কাঁচা শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস প্যাকেটজাত খাদ্য দ্রব্য সবকিছুতেই রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত এবং এর পরিমিত প্রয়োগের অভাবে
ভেজাল খাদ্য সৃষ্টি হয়।তাছাড়া নামিদামি ব্রান্ড বহুজাতিক কোম্পানির চটকদারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আজকের এ প্রজন্ম সেসব খাবারই বেশি গ্রহণ করে যা তাদের শরীর মেধা মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বহু প্রসারের কারণে অনেক মানহীন খাদ্যদ্রব্য মানুষ উচ্চ মূল্যে,হুজুগে গ্রহণ করে!একদিকে অনিরাপদ খাদ্যের কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে আর সেসব রোগে ভুগে সাধারণ মানুষ, অপরদিকে মুনাফা খোররা মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে (খামারবাড়ি, ঢাকা) অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘হাত রেখে হাতে, উত্তম খাদ্য ও উন্নত আগামীর পথে।’
জগৎ বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি- ‘যার টাকা নেই, তার কাছে আইন মাকড়সার জালের মতো; যা শক্তিশালীরা ছিঁড়ে বেরোতে পারে, কিন্তু দুর্বলরা আটকে যায়।’ বাংলাদেশে সক্রেটিসের এ উক্তি যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক।খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর নিম্নমানের জিনিস মিশিয়ে মুনাফা করতে পটু দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তাদের অনিরাপদ খাদ্য মানুষের রোগব্যাধি ও মৃত্যুর কারণ হলেও আইনের আওতায় এনেও কোনো ফল পাচ্ছে না সরকার। অভিযান, জরিমানা-জেল কিছুতেই আটকানো সম্ভব হচ্ছে না তাদের। ফলে আইন প্রয়োগেও নিরাপদ হচ্ছে না দেশের খাদ্য।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে ১৫০টি, মামলা করা হয়েছে ১৫৩টি। পাশাপাশি ১৫০ ব্যক্তিকে দণ্ডিত করা হয়েছে। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা করা হয়েছে ৭২টি। তবে এসব মামলার বেশিরভাগই নিষ্পত্তি করা হয়নি। এখনো পেন্ডিং মামলা রয়েছে ১৮৭টি।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জাকারিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত জেলা উপজেলায় ১৫ হাজার ৯৬৯টি মনিটরিং করা হয়েছে। খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এসব নমুনা পরীক্ষায় যেসব প্রতিষ্ঠান দণ্ডিত হওয়ার মতো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধানে ব্রিটিশ আমল থেকে অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ২৭২ ধারা অনুযায়ী বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে দূষিত খাবার ও পানীয় বিক্রি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনে খাদ্যপণ্যে ভেজাল মিশ্রণ একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কারাদণ্ড ও জরিমানা আরোপের বিধান করা হয়েছে।আমরা ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ৫৭ হাজার মানুষকে সচেতনতার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে। মানুষকে আরো সতর্ক হতে হবে। আমাদের জানাতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাংলাদেশে উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ ও মৃত্যুঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, খাবারে অতিরিক্ত লবণ এবং ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি উচ্চরক্তচাপের নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এদিকে খাবারে অতিরিক্ত লবণ এবং ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি কমাতে আইন প্রয়োগ করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশেষ আইন প্রণীত হয়েছে ২০১৩ সালে। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ২ ধারা অনুযায়ী ‘নিরাপদ খাদ্য’ বলতে প্রত্যাশিত ব্যবহার ও উপযোগিতা অনুযায়ী মানুষের জন্য বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত আহার্য বোঝানো হয়েছে। এছাড়া বিএসটিআই আইন ২০১৮ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন ২০২১ নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধানে আইনি কাঠামোর অংশ। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ধারা ২৫(গ) অনুসারে খাদ্যে ভেজালকে মৃত্যুদণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনিরাপদ খাদ্য বা ভেজাল খাদ্যের বিষয়টি ‘ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্যক্রম’ হিসেবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তাছাড়া এ আইনে উপরিউক্ত যেকোনো দায়িত্বের লঙ্ঘন আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ আইনের অধীন একটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা যাবে। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ধারা ৬৪ অনুযায়ী ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ধারা ৬৫ অনুযায়ী সেই আদালতের বিচারক হবেন একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। এ আদালতে খাদ্যসংক্রান্ত সব অপরাধের বিচার হবে। এটি খাদ্যসংক্রান্ত সব অপরাধের বিচারের জন্য মূল এবং নিয়মিত বিচারিক আদালত। ধারা ৬৬(২) অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা বা পরিদর্শক অভিযোগ পেলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা করবেন। এটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মূল আইনি দায়িত্ব।
এছাড়া ধারা ৬৬(৩) অনুযায়ী যেকোনো সাধারণ নাগরিক নিজেও অভিযোগের কারণ উদ্ভবের ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা করতে পারেন। নিরাপদ খাদ্য আইনে ‘সামারি ট্রায়াল’ বা দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ আইনের আওতায় নিরাপদ খাদ্য আদালত ন্যূনতম ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করার ক্ষমতা রাখেন। অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ৬২ ধারা অনুসারে আদায় করা অর্থদণ্ডের ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রাপ্য হবেন। এ আইনের ৭৬ ধারায় দেওয়ানি প্রতিকারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ব্যতীত নিজেরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারেন না। অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা করার এখতিয়ার থাকলেও শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষমতা মোবাইল কোর্ট আইনানুযায়ী সীমিত। শাস্তির ক্ষেত্রে তাই কারাদণ্ড প্রয়োগের দৃষ্টান্ত বিরল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক জরিমানা আরোপ করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের, যা আদতে সঠিক নয়। ফলে মূল বিচারিক আদালত তথা বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের এখতিয়ার ও ক্ষমতা সম্বন্ধে মানুষ জানতে পারছে না।
এ বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, এসব অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা থেকে সাধারণ জনগণ এ ধারণা লাভ করেন যে জরিমানাই হচ্ছে এসব অপরাধের একমাত্র শাস্তি। মূল আইনকে অকার্যকর রেখে, নিয়মিত ও স্থায়ী বিচারিক আদালতকে পাশ কাটিয়ে শুধু প্রশাসনিক জরিমানা কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা প্রয়োগের এ প্রবণতা সাময়িক উপশম দিলেও তা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারছে না। শুধু জরিমানা আরোপ করে এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে নিবৃত্ত রাখা অসম্ভব। অসৎ উপায়ে, প্রতারণা করে অর্জিত কালো টাকা জরিমানা হিসেবে প্রদান করে এ ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত ও স্থায়ী বিচারিক আদালতের আইনানুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টানমূলক শাস্তি কার্যকর না করায় নিরাপদ খাদ্যের বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ দায় এড়াতে পারে না। মনে রাখতে হবে, আইনের প্রয়োগহীনতাও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিএফএসএ ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেসড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) প্রোগ্রামের ম্যানেজার ডা. গীতা রানী দেবী বলেন, উচ্চরক্তচাপ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব নিয়ে আমরা কাজ করছি। কমিউনিটি পর্যায় থেকেই কাজটি শুরু করা উচিত এবং সেই অনুযায়ী নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে হবে।
শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষকে সচেতনার কথা বলছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি এমন একটি পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে, যেন প্রক্রিয়াজাত খাবার কেনার আগে মানুষ বুঝতে পারে কোন খাবারে কতটা লবণ ও অন্যান্য উপাদান আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, উচ্চরক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিতের পাশাপাশি জীবনাচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।












