বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে সবুজ বিপ্লবের লক্ষ্যে: ৫ বছরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা মিশন শুরু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস গ্যাস,জরিমানা ১ লাখ ১৬ হাজার আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু ব্যহত হতে পারে বনদস্যুদের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে মন্দাভাব,শোরুমের খরচ নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ৩কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য জব্দ মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান কৃষি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা এনেছে ভুজপুর রাবারড্যাম অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই কি পানিতে ডুবে যান রাহুল? ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে এমপিওভুক্ত মহিলা শিক্ষকদের নিরব কান্না দেখার কেউ নেই

বাবাকে ফিরে পেয়েছি আমরা-মহসিন উল হাকিম

মহসিন উল হাকিম / ৯৪ Time View
Update : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫

সম্প্রতি সিনিয়র সাংবাদিক সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও নিরাপদ সুন্দরবন করার কারিগর খ্যাত মহসিন উল হাকিম তার বাবার সুস্থ হওয়া নিয়ে একটি হৃদয়কাড়া স্ট্যাটাস দিয়েছেন।সত্যিই এ সমাজে পিতাপ্রেমী সন্তানের সংখ্যা খুবই কম।একজন পিতা যিনি সারা জীবন নিরবে সংসার সন্তানের বোঝা কাঁধে নিয়ে সারাটি জীবন সংসারে সমস্ত জীবনশক্তি উৎসর্গ করে দিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে থাকে তার সন্তান মানুষের মত মানুষ হবে।গর্বিত পিতার এ পর্বে আমরা ঠিক তেমনি একজন রত্নপিতা পেয়েছি।যিনি তার সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছেন।
যার প্রমাণ মহসিন উল হাকিম।মহাসিনের হাত ধরে জীবনে ফিরেছে সুন্দরবনের কালোর জগতে থাকা জলদস্যুরা।তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারে প্রচেষ্টা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সবকিছু এ জাতি কোনদিনই ভুলবে না।এখনো তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সুন্দরবনের মানুষের জন্য নিরাপদ জীবন গড়ার জন্য।বাবাকে নিয়ে তার দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো….

২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে দশটা। বাবার বুকে ব্যথা উঠলো। তীব্র ব্যথা। অসুস্থ মানুষটিকে নিয়ে রওনা হলাম। সিএমএইচ এ পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় ১১টা। ইমার্জেন্সিতে নিশ্চিত হলাম, বড়সড় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। আমরা বলি হার্ট অ্যাটাক।

ভোরবেলা বাবাকে নেওয়া হলো সিসিউই-এ। এনজিওগ্রাম হলো। কিন্তু সমাধান আসলো না। চিকিৎসকরা বললেন, পরিস্থিতি বেশ জটিল। স্টেন্ট বা রিং পড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ। বাইপাস সার্জারি করতে হবে। কিন্তু বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর পাঁচ দিন কাটলো সিসিইউ এ।

সিএমএইচ এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা সময় নিলেন। আমাদেরও সময় দিলেন। আমরা দেশের বেশ কয়েকজন কার্ডিওলজিস্ট ও সার্জনের পরামর্শ নিলাম। সবাই একই সিদ্ধান্ত দিলেন।

এদিকে বেশ কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাবা। পুরো পরিবার মহা দুশ্চিন্তায়। স্বজন, বন্ধু ও আপনারা সাহস যুগিয়েছেন। সবশেষ সাহস দিলেন ঢাকা সিএমএইচ এর চিকিৎসকরা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মালেক করবেন এনজিওগ্রাম, মেরামত করবেন, স্টেন্ট পড়াবেন।

আজ ১২ অক্টোবর সকালে বাবাকে নেওয়া হলো ক্যাথল্যাবে। ডাক্তার ডাকলেন আমাকে। বললেন, একাধিক স্টেন্ট পড়াতে হবে। তবে বিষয়টি অনেক জটিল। কারণ একটি সরু নালী শতভাগ ব্লক। সেটি ঠিক করতেই যতো ঝুঁকি। আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করলাম।

শুরু হলো অপেক্ষা। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটে স্টেন্ট পড়ানো হয়। কিন্তু বাবার ক্ষেত্রে সেই সময় পেরিয়ে গেলো ৪০ মিনিট। উৎকণ্ঠা কাটেই না। কারণ বন্ধ হওয়া নালীটি বিরাট ঝুঁকির। একটু এদিক ওদিক হলে ওই টেবিল থেকে হয়তো বাবাকে ফেরানো যাবে না।

প্রায় ৪৫ মিনিটের মাথায় একজন খবর নিয়ে আসলেন। মেজর হাকিম স্যারের স্টেন্ট পড়ানো হয়ে গেছে। বললাম, সব ঠিকঠাক? উনি বললেন, সব ঠিক। আপনার বাবা সুস্থ্য। বাবার হৃদয়ের বন্ধ হওয়া রক্ত নালীগুলো খুলে গেছে। দুটি স্টেন্ট পড়ানো হয়েছে। এরপর আবার সিসিইউ। ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ চলছে।

১৮ দিনের উৎকণ্ঠা কেটেছে আপাতত।আমরা ফিরে পেয়েছি বাবাকে। আপনারা সবাই দোয়া করেছেন। কৃতজ্ঞ আমরা।

কৃতজ্ঞতা জানাই ঢাকা কম্বাইন্ড মিলিটারি হসপিটালের চিকিৎক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি। ব্রি জেনারেল ডা. আলেয়া, ব্রি জেনারেল ডা. হান্নান ও ব্রি জেনারেল ডা. মালেকের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। সিএমএইচ এর ব্যবস্থাপনায় যাঁরা আছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

সবাই ভালো থাকবেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।


এ বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর