অতিরিক্ত সিম নিয়ে বিটিআরসির বার্তা;মোবাইল অপারেটর কোম্পানি আগেই নিচ্ছে সুযোগ
।।আমিনুল ইসলাম।।
কোনো ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি মোবাইল সিম থাকলে সেগুলো ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের মাধ্যমে ‘ডি-রেজিস্টার’ করতে হবে। এনিয়ে জরুরি বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
সোমবার বিটিআরসি-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে,নিজ এনআইডিতে পছন্দমতো ১০টি সিমকার্ড রেখে অতিরিক্ত সিমকার্ডসমূহ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে ডি-রেজিস্টার (নিবন্ধন বাতিল)/মালিকানা পরিবর্তন করুন।
নিজের এনআইডির সাথে সম্পৃক্ত কতগুলো সিম নিবন্ধিত আছে তা যাচাই করার জন্য ব্যবহারকারীরা ★১৬০০১# ডায়াল করে পরবর্তীতে এনআইডির শেষ ৪ ডিজিট পাঠিয়ে তথ্য জানতে পারবেন।
যদি গ্রাহক নিজে অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্টার করতে ব্যর্থ হলে,কমিশন দৈবচয়নের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সিমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করবে বলে সতর্ক করেছে বিটিআরসি।
ব্যক্তি তার নিজনামে নিবন্ধিত যেসব সিম ব্যবহার করছেন না—সেগুলো বাতিল করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী,যাদের নামে ১০টির বেশি সিম রয়েছে,তাদের একটি তালিকা মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠাবে বিটিআরসি।অপারেটররা এসব গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাইবে, তারা কোন ১০টি সিম রাখতে চান। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে যেসব সিম থেকে বেশি কল বা ডেটা ব্যবহার হচ্ছে এবং যেগুলো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস(বিকাশ,নগদ, রকেট ইত্যাদি)-এর সঙ্গে যুক্ত।
অনেকেই হয়তো জানেন না।অথচ এটি জানা অত্যন্ত জরুরি।কারণ,অজান্তেই কেউ আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সিম রেজিস্ট্রেশন করে ফেলতে পারে। পরে সেই সিম কোনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হলে আপনিই পড়বেন বিপাকে।এমন বার্তা ও দিয়েছে বিটিআরসি।
বর্তমানে মোবাইল ফোনে কল,বার্তা কিংবা ইন্টারনেট সকল ক্ষেত্রেই সিম কার্ড অপরিহার্য।আর এই সিমের নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে এনআইডি দিয়ে করতে হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে,একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহার করতে পারবেন।এর আগে,একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫টি সিম ব্যবহার করতে পারতেন।কিন্তু সিম জালিয়াতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় বিটিআরসি এই সীম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ কোটি ৬২ লাখ সক্রিয় সিম রয়েছে। এর বিপরীতে প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখের মতো। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ গ্রাহকের নামে রয়েছে ৫টি বা কম সিম। ৬ থেকে ১০টি সিম রয়েছে ১৬ শতাংশের মতো গ্রাহকের নামে এবং ১১ থেকে ১৫টি সিম রয়েছে মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি গ্রাহকের নামে।
তাই সিমের অপব্যবহার কিংবা জালিয়াতির ফাঁদে পড়ার আগেই নিজের নামে কয়টি সিম রয়েছে তা জানা জরুরি।নিয়মিত যাচাই করুন এবং অপ্রয়োজনীয় সিম বাতিল করে নিজের পরিচয় নিরাপদ রাখুন।এমনই বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি)।
তবে বিটিআরসির বেধে দেওয়ার সময় এর আগেই মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলো সিম ডিএক্টিভেট করছে বলে অভিযোগ করেন অনেক গ্রাহক।
এতে করে তাদের নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যম অপরিচিত সিম গুলো সাংক্রিয়ভাবে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি নিয়ে যাওয়ায় বিপাকেও করছেন তারা।
রাজধানীর একটি বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস এ সিম তুলতে আসেন শাহনাজ পারভিন নামের একজন গ্রাহক।তিনি একজন উদ্যোক্তা
তার দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি সিম 0191235..72
কয়েকদিন ধরে বন্ধ ছিলো।তিনি জানান মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যাওয়ায় সিম কার্ডটি বন্ধ ছিল।কর্ম ব্যস্ততার কারণে তিনি সিমটি তুলতে যেতে পারেননি।তবে তার এনআইডি কার্ডের শেষের চার সংখ্যা দিয়ে তিনি চেক করে দেখেন সিমটি তার নামেই আছে।তবে কাস্টমার কেয়ারে সিম কার্ডটি তুলতে গেলে বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ার সিম কার্ডটি রিপ্লেস করতে ব্যর্থ হন।এর কারণ জানতে চাইলে ডেমরার ওই কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তা জানান এনআইডি কার্ড দিয়ে চেক করার সময় সিম কার্ডের নাম্বার শো করে কিন্তু সব সিম তোলা সম্ভব নয়।
এটা কোন ধরনের সিস্টেম জানতে চাইলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।তবে রিসাইকেলিং এর পর্যায়ে অনেক সিম কার্ড রয়েছে বলে জানানো হয়।
বিটিআরসির পদক্ষেপের সুফল যেমন রয়েছে তেমনি এই পদক্ষেপের সুযোগ নিয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত লাভের জন্য সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে পারে না বলেও জানান বিভিন্ন জন।
তাদের দাবি অতিরিক্ত সিমের যে মূল্য রয়েছে সে মূল্যের সমপরিমাণ প্রাপ্য নিয়মিত ব্যবহারকারী সিমগুলোতে গ্রাহকের পছন্দমত দেয়া হোক।












