হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিতলপাটি শিল্প
।।ইসরাত জাহান শিমু।।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বৈষ্কাইল গ্রামের পাইট্টাপাড়া এলাকায় একসময় প্রায় ১৫০টি হিন্দু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শীতলপাটি বুনন পেশায় যুক্ত ছিলো। মুর্তা গাছের ছাল কেটে বোনা এই ঐতিহ্যবাহী পাটি ছিলো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গৃহস্থালি সামগ্রী,যার মসৃণতা ও প্রাকৃতিক শীতলতা গরমের দিনে আরাম দিতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এর চাহিদা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ পরিবার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ঐ এলাকায় নারেশ চন্দ্র চন্দা (৮৫), তার স্ত্রী কমলা রানি (৮০) ও ছেলে মনতোষ চন্দ্র চন্দা (৪৫)—এই একটি পরিবারই শীতলপাটি তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা স্থানীয় বাজারে পাটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।ছোট পাটি বানাতে তিন–চার দিন ও বড় পাটি বানাতে ছয়–সাত দিন লাগে।তবে এখন আর স্থানীয়ভাবে মুর্তা পাওয়া যায় না,তাই তাদের তা কিনে আনতে হয়।
গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী প্রভীর চন্দ্র চন্দা বলেন,“নারেশ চন্দার পরিবার না থাকলে গোপালপুরে শীতলপাটির ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে যেত।” উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো প্রকল্প চালু নেই; ফলে নারেশ চন্দ্র চন্দা শুধু বয়সভিত্তিক ভাতা পান। ফলে সরকার ও সমাজের সহায়তা ছাড়া এই শতবর্ষী ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।












