কাজেই আনন্দ,আনন্দেই জীবনঃজীবন্ত কিংবন্তি আবুল হায়াত
।।শাহনাজ পারভীন লিনা।।
আবুল হায়াত একজন প্রকৌশলী, নাট্য অভিনেতা পরিচালক,এমন অসংখ্য পরিচয় রয়েছে তার।গুণী এই মানুষটি নিরবে শুধু কাজই করে গেছেন। দেখিয়েছেন অসংখ্য মানুষকে আলোর পথ।ক্যারিয়ারে একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা সহ পেয়েছেন অসংখ্য সম্বর্ধনা। সম্প্রতি আনিসুল হকের উপস্থাপনায় একটি অনুষ্ঠানে জীবনের বেশ কিছু অজানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন।তুলে ধরেছেন নানা জানা অজানা অধ্যায়।
ঋত্বিক ঘটক বলেছিলেন, ‘বুঝলা, নিজের ঢাক নিজেই পিটাইবা। অন্য কাউরে দিলে ফাটায়া ফেলাইব’। অভিনেতা আবুল হায়াত শোনাচ্ছিলেন তাঁর জীবনের গল্প, ঋত্বিক ঘটকের প্রসঙ্গ আসায় তাঁর মুখে ফুটে ওঠে স্নিগ্ধ হাসি। কথা হচ্ছিল প্রথম আলোর আয়োজন ‘ক্রাউন সিমেন্ট’ অভিজ্ঞতার আলো শীর্ষক ভিডিও সাক্ষাৎকারে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ আবুল হায়াতের সার্কিট হাউস রোডের ফ্ল্যাটে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
তাঁর পুরো নাম খন্দকার মোহাম্মদ শামসুল আরেফীন আবুল হায়াত গোলাম মাহবুব। আর পিতা তাঁর প্রিয় কবির নামে রেখেছিলেন একটা ডাকনাম—রবি। জন্ম তাঁর ১৯৪৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, মুর্শিদাবাদে। বাবার চাকরি ছিল রেলওয়েতে। ১৯৪৭–এর পর তাঁর কর্মস্থল হলো চট্টগ্রাম। তিনি পরিবারসহ চলে গেলেন চট্টগ্রামে।
তিন বছরের রবির সেই যাত্রার তিনটা জিনিস এখনো মনে আছে। মুনিষের কাঁধে চড়ে ট্রেনে উঠেছিলেন। আবুল হায়াত বলেন, ‘একটা কালো ইঞ্জিন একটা হুইসেল দিল, চিৎকার করে উঠলাম মায়ের কোলে। আর তিন নম্বর হলো স্টিমারে নদী পার হওয়া—গোয়ালন্দ থেকে চাঁদপুর।’
রবি পথ নামের একটা সুন্দর আত্মজীবনী লিখেছেন তিনি। সেখানে দেশভাগের বেদনার কথা আছে। অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছড়া থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, ‘তেলের শিশি ভাঙল বলে খুকুর পরে রাগ করো, তোমরা যেসব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করো! তার বেলা?’
ছোটবেলার চট্টগ্রামের সৌন্দর্য এখনো তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। সম্প্রতি তিনি গিয়েছিলেন টাইগারপাস কলোনিতে ছেলেবেলার জায়গাগুলো দেখতে। দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। কোথায় সেই গাছগাছালি, বাগান, পাহাড়, তক্ষকের ডাকে ভরা সন্ধ্যাবেলা, যেখানে কুপিবাতির আলোয় পড়তে বসতে হতো।












