যে সকল কথা দ্বারা কাউকে ছোট বা হেয় করা হয় তাই গালি। মানুষ তাদের পরিভাষায় যেসব শব্দকে গালি, উপহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনে করে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাই গালি হিসেবে বিবেচিত। গালি দেওয়া ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা কোনো ঈমানদার মানুষের কাজ নয়।মানুষকে তো গালিগালাজ করা যাবেই না, এমনকি শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না।
আল্লাহ ও রাসুল(সঃ)কে গালি দেওয়া কুফরি:
মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল (সঃ)কে গালমন্দ করা, তাঁদের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা কটাক্ষ করা বড় কুফরি। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সঃ)কে গালি দেওয়া ও তাঁদের সঙ্গে উপহাস করা মূলত তাদের কষ্ট দেওয়া। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তার রাসুল (সঃ)কে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশাপ করেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৭)
ঈমানদারদের গালি দেওয়া ফাসেকি : যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কোনো ভাবেই কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি ইসলামে নেই।
ঈমানদার ব্যক্তিদের গালি দেওয়া ফাসেকি:যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কোনো ভাবেই কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি ইসলামে নেই।
এমনকি হাসি বা ঠাট্টার ছলেও কাউকে গালি দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয়।
সময়কেও গালি দেয়া যাবে না।আরব্য মুশরিকদের দল কোনো বিপদে পরলে সময়কে গালি দিতো।
কারণ সময়ের ভালো ও মন্দ পরিবর্তন করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তাই সময়কে গালি দিলে তা আল্লাহকে গালি দেওয়ার সমতূল্য হয়।হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন, মানুষ সময়কে গালি দিয়ে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমিই সময় (সময়ের স্রষ্টা), সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে, আমি রাত-দিনের পরিবর্তন করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৯১)
হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি [আল্লাহর অবাধ্যাচরণ] এবং তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৪)
এমনকি কোনো ধর্মের উপাস্য বা দেব-দেবীদের গালি দেওয়া সম্পর্কে ইসলামে স্পষ্ট নিষেধ রয়েছে।
মহাগ্রন্থ আল কুরআন এ স্পষ্ট করে এ ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের আরাধনা করে, তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না। তাহলে তারা ধৃষ্টতা দেখাতে গিয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গাল-মন্দ করবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ-কর্মকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদের বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।’ (সুরা আনআম:আয়াত ১০৮)।
মাতা-পিতা তুলে গালি দেওয়া যাবে না: সাধারণত প্রত্যেকেই নিজের মা-বাবাকে ইজ্জত-সম্মান করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় অন্যকে মা-বাবা তুলে গালি দেওয়ার কারণে সেও তার মা-বাবা তুলে গালি দেয়। এতে নিজের মা-বাবাকে সরাসরি গালি না দিলেও নিজের কারণে অন্যের গালি দেওয়ার পথ তৈরি হয়। এটিও করা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের বাবা-মাকে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল(সঃ)! মানুষ নিজের বাবা-মাকে কীভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন কোন লোক অন্য লোকের বাবাকে গালি দেয়, তখন সেও তার বাবাকে গালি দেয়, মাকে গালি দেয়।’ (সহীহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩)
পশু-পাখি,মৃত ব্যক্তি,রোগ-ব্যাধি,অন্ধকার কেও গালি দেয়া যাবে না।কারণ ৬৮০০০ মাখলুখাতের মধ্যে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুখাত আর অন্য সবকিছু মানুষের উপকার এর জন্য সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ।
অতিমাত্রায় বয়ে যাওয়া বাতাস,অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, জলচ্ছ্বাস, ঝড়, টর্নেডো, মহামারি ইত্যাদিকে গালি দেয়া যাবে না।হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি। বাতাস আল্লাহর এক হুকুম, তা কখনো রহমত নিয়ে আসে, আবার কখনো আজাব নিয়ে আসে। তুমি যখন বাতাসকে দেখবে, তখন তাকে গালি দেবে না, বরং আল্লাহর কাছে এর থেকে কল্যাণ কামনা করবে এবং এর অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে।’ (আবু দাউদ,হাদিস : ৫০৯৭)
শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না : কোনো মানুষ, প্রাণি বা কোন কিছুকেতো গালি দেওয়া যাবেই না, এমনকি শয়তানকেও গালি দেওয়া যাবে না।এর অর্থ এই নয় যে শয়তান তাওবা করে ভালো হয়েছে। বরং শয়তান অভিশপ্ত ও খারাপ হয়েই আছে। তাকে গালি দিলেও সে সংশোধন হবে না।
এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, তোমরা শয়তানকে গালি দিও না।বরং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৭৩১৮)
সবশেষে বলা যায়,সবসময় গালমন্দ ও অশ্লীল বাকবিতন্ডা থেকে নিজেদের বেঁচে থাকতে হবে, ঈমানকে মজবুত করতে মহান রবের কাছে করুণা ভিক্ষা চাইতে হবে,আশ্রয় চাইতে হবে,জাহান্নামের আজাব হতে আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন। এই দুআ করতে হবে ইনশাআল্লাহ এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্জিত ও শ্রুতিমধুর কথার ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে।আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুণ।
আল্লাহুম্মা আমীন।
নির্বাহী সম্পাদক-জাফর মাতুব্বর, সহ-সম্পাদক-মোঃআমিনুল ইসলাম
Mobile: +8801611-118649, +8801622-356873,
E-mail: newsajsaradin@gmail.com,ajsaradin24@gmail.com
©নকশী হ্যান্ডিক্রাফট বিডি লিমিটেড এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১০৯,গ্রীণ রোড,ফার্মগেইট, ঢাকা-১২০৫ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।