কখনো ভেবেছেন আপনার ঘরে টাইমবোমা!
মাথার ওপরে কি চলছে? এসি নাকি টিকটিক করতে থাকা টাইমবোমা। ভেবে দেখেছেন কখনো? দেশে কিছুদিন পরপরই ঘটছে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা। যেখানে গুরুতরভাবে পুড়ে যাচ্ছেন কেউ, আবার কেউ হারাচ্ছেন প্রাণ।
সম্প্রতি রাজধানীর ধলপুর এলাকায় এসি বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের ৪জন দগ্ধের ঘটনা নতুন করে ভাবনায় ফেলে দেয় নগরবাসীকে।
কিন্তু কেনই বা এভাবে বারবার এসি বিস্ফরণের ঘটনা ঘটছে?
চলুন জেনে নেয়া যাক এসি কেন ফাটে।
এসিতে একটি কম্প্রেশার থাকে, যার কাজ এক বিশেষ গ্যাসকে প্রচন্ড চাপ দিয়ে তরলে পরিণত করা। একাজটি হয় এসির বাইরের অংশে যাকে কন্ডেনসার বলা হয়। কন্ডেনসারের ভেতরের গ্যাস ঠান্ডা করতে , একটি ফ্যান ক্রমাগত চলতে থাকে। যা তাপ ছড়িয়ে দেয় বাইরে। এই ঠান্ডা গ্যাস একটি ভাল্বের মাথ্যমে ইনডোর অংশে থাকা কয়েলে প্রবেশ করে যাকে ইভ্যাপুরেটর বলা হয়। সেখানে চাপ কম থাকা তরল থেকে আবার গ্যাসে পরিণত হয় এবং একই পরিমান তাপ শুষে নেয়। এতে ইভ্যাপুরেটর খুব ঠান্ডা হয়ে পড়ে। একটি ব্লোয়ার ফ্যান ঠান্ডা কয়েলের ভেতর দিয়ে বাতাস বের করে ঘরে ছড়িয়ে দেয়। এভাবেই আমরা ঠান্ডা বাতাস পাই।
এখন প্রশ্ন হলো, এসি বিস্ফোরণ হয় কিভাবে?
*এসির কম্প্রেসর ত্রুটিপূর্ণ বা নিম্নমানের হলে, গ্যাস লিক করার আশংকা থাকে। লিক করা গ্যাস বৈদ্যুতিক সংস্পর্শে এসে বিস্ফেরণ হতে পারে।
*এসিতে গ্যাস কমবেশি হলে কিংবা নিম্নমানের গ্যাস ব্যাবহার করলেও কম্প্রেশারে চাপ পড়ে এবং এর সক্ষমতা কমে গরম হতে থাকে।
* বাতাস চলাচলের সুব্যস্থা নেই এমন জায়গায় আউটডোর লাগালেও কম্প্রেশর অল্পতেই গরম হয়ে যেতে পারে।
*নিয়মিত সার্ভিসিং না করানো এসিকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়ার একটি অন্যতম বড়ো কারণ। এতে পুরো এসির ওপরই চাপ বাড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চালালে বিস্ফোরণের আশংকা বেড়ে যায়।
*এসি চালানোর বৈদ্যুতিক তার দুর্বল হলে তা গরম হয়ে শর্টসার্কিট হতে পারে। এছাড়া ঘরের বৈদ্যতিক লাইনে সমস্যা থাকলেও তা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
* ভোল্টেজ ওঠানামা করলে কিংবা অতিরিক্ত ভোল্টেজ বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বিপদ থেকে বাঁচার উপায় :
* কেনার সময় দক্ষ কাউকে নিয়ে ভালোমানের এসি বেছে নিন।
* রুমের আকার বুঝে এসি কিনুন।
* আউটডোর বসানোর সময় খোলামেলা জায়গা বেছে নিন।
* নিয়মিত এসি পরিষ্কার রাখুন। বিশেষ করে ইনডোরের কাভার খুলে নেট পরিষ্কার করার কাজটি নিজেরাই করা যায়।
* দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে বছরে অন্তত চারবার সা্র্ভিসিং করানো জরুরী। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ধূলোবালি বেশি থাকে। সার্ভিসিং এর সময় অবশ্যই কম্প্রেসার এবং গ্যাসের পরিমাণ চেক করতে হবে।
* এসি মাঝারি ঠান্ডার একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখলে সবসময় আরামদায়ক তাপমাত্রার পাশাপশি এসির ওপর চাপও কম পড়ে।
* কখনো অস্বাভাবিক গন্ধ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে এসি বন্ধ করে টেকনিশিয়ান দেখান।
* ভোল্টেজ ওঠানামার সমস্যা থাকলে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন।
* একই লাইনে এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন মাইক্রোওভেন জাতীয় ভারি যন্ত্র চালাবেন না।












