।।আজ সারাদিন ডেস্ক।।
একাত্তরে নববধু আবিরনের স্বামী হোসেনের মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার খবর পেয়ে মিলেটারিরা তাঁদের বাড়িতে হা*মলা চালায়। এসময় বাড়ি থেকে পালাতে গিয়ে মি*লিটা*রীদের হাতে ধরা পড়েন। তারা আবিরনকে ধরে কয়েকজন মিলে ধ* র্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।
পরে আবিরনের স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাঁকে আর বাড়িতে আশ্রয় দেয়নি। বাধ্য হয়ে বাবা আজিমুদ্দিনের বাড়িতে ফিরে এলে মা কাছিরন (বাতাসি) বেওয়া তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এই অপরাধে আবিরনের বাবা আবিরনের মা কাছিরনকে তালাক দেন। কাছিরন বেওয়া মেয়েকে নিয়ে নিজের বাবা ইউসুফের বাড়িতে ওঠেন। সেখানেও তাঁদের আশ্রয় হয়নি।
সেসময় নানি কাচুয়ানী তাঁদের কাছে রাখতে চাইলেও পারেননি। পরে অন্যের বাড়ির পাশে ঝুপড়ি তুলে থাকতেন। কাছিরন বেওয়ার বাবা মারা যাওয়ার পর আবিরনের নানার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে বাড়িতে আশ্রয় পান। এমন করেই নিজের জীবনের গল্প যুগ যুগ ধরে বলে আসছেন আবিরন।
এখনও নিঃসন্তান আবিরন মা কাছিরন বেওয়ার সাথেই আছেন। এমন যার জীবনের ট্রা*জেডি, শুনেছিলাম সেই আমিরনের নাকি মুক্তিযোদ্ধার সনদ হয়নি!
আবিরন বেওয়ার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের কালে গ্রামে। তাঁর স্বামীর বাড়ি ছিল রাজারহাট উপজেলার ফরকেরহাটে। বাবার বাড়ি ছিল মুক্তারাম, নানার বাড়ি কালেতে। সেখানেই তিনি থাকছেন মা সহ। তাঁর মা জিরজিরে একটা ভাঙা টিনের ঝুপড়িতে থাকতেন। বছর তিন-চারেক আগে জাপান প্রবাসীদের সহায়তায় একটা ছোট্ট টিনের ঘর দেওয়া হয়েছে। ঘর পাওয়ার পর কাছিরন বলেছিলেন,
“এখন তো আমার মরার সময়, ঘর দিয়া আমার আর কি হবে?”
ছবিতে বামে আমিরন বেওয়া ও ডানে তাঁর মা কাছিরন বেওয়া।
আলোকচিত্র ক্রেডিট: মোস্তফা হোসেইন।
ইতিহাসের খোঁজে গিরিধর
নির্বাহী সম্পাদক-জাফর মাতুব্বর, সহ-সম্পাদক-মোঃআমিনুল ইসলাম
Mobile: +8801611-118649, +8801622-356873,
E-mail: newsajsaradin@gmail.com,ajsaradin24@gmail.com
©নকশী হ্যান্ডিক্রাফট বিডি লিমিটেড এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১০৯,গ্রীণ রোড,ফার্মগেইট, ঢাকা-১২০৫ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।