।।আজ সারাদিন।।
আল্লামা লুৎফর রহমান বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওয়াজ মাহফিলে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুসলমানদের সচেতন করতেন।তিনি দেখিয়ে গেছেন মুসলিম উম্মার শান্তির পথ দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির জন্য মুসলিম উম্মার কি করনীয় আল্লামা লুৎফর রহমান সারা জীবন সেই কথাই দেশ ও বিশ্বের মুসলমানের কাছে রাহাবারের হয়ে পৌঁছে দিয়েছেন।
তার জীবদ্দশায় রয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর ঘটনা।তার এক অনুসারীর মুখে একটি ঘটনার কথা অবাক করে দিয়েছিলো উপস্থিত সকলকে।
দুদকের একটি টিম গিয়েছিলো আল্লামা লুৎফর রহমানের বাড়িতে,
বাড়িতে গিয়ে দেখে মাঝারি সাইজের একটা টিনের ঘর।
দুদক ভাবলো হয়তো তাদেরকে ভুল ঠিকানা দিয়েছে এলাকার মানুষ, তাই তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন লুৎফর রহমান সাহেব সেই টিনের ঘর থেকে বেরিয়ে বললেন, আপনারা কার কাছে এসেছেন?
দুদক সদস্যরা অবাক! উত্তর দিলেন, আপনার কাছেই এসেছি হুজুর। কিন্তু
আপনি এত মাহফিল করেন, এত টাকা পান, আপনার বাড়ি ঘরের এই অবস্থা কেন?
-কারণ, এটাতো আমার স্থায়ী নিবাস না।
দুদুক টিম, ভাবলো অন্য কোথাও হয়তো তার রাজপ্রাসাদের মত বাড়ি আছে।
তারা জিজ্ঞেস করলেন, স্থায়ী ঠিকানা কোথায়?
আবারও হুজুর তাদের অবাক করা উত্তর দিলেন, জান্নাত আমার স্থায়ী নিবাস।
দুদুক টিম জিজ্ঞেস করলেন, আপনার উপার্জিত এত লক্ষ লক্ষ টাকা কী করেন?
তিনি বললেন, জনগণের টাকা জনগনের কল্যাণে ব্যায় করি।উল্লেখ্য
আল্লামা লুৎফর রহমান ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ সালে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা আব্দুস সামাদ ছিলেন একজন স্বনামধন্য আলেম ও সমাজসেবক। মাতার নাম বেগম মাকসুদা খাতুন। পিতার হাতেই ইসলামী শিক্ষার সূচনা করেন মাওলানা লুৎফুর রহমান।
দেশ-বিদেশে তুমুল জনপ্রিয় বরেণ্য আলেম লুৎফুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় কালাইয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে। ১৯৬১ সালে সেখান থেকে দাখিল পাস করেন। ১৯৬৩ সালে আলিম পাস করেন রায়পুর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে। এরপর ১৯৬৫ সালে ফাজিল এবং ১৯৬৭ সালের কৃতিত্বের সাথে কামিল পাশ করেন তিনি। ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি তিনি নবাব ফয়জুন্নেসা কলেজ থেকে ডিগ্রি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনের প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্র লুৎফর রহমান কর্মজীবনে রাজখালী আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রাখেন। এমপি না হতে পারলেও নিজ উদ্যোগে তিনি অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাওলানা লুৎফর রহমান। ইসলামের দাওয়াত বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, কোরিয়া, জাপানসহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মুফাসসিরে কোরআন।
তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম, ইসলামিক বক্তা, গবেষক ও বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ৩ মার্চ রোজ রবিবার দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
আল্লামা লুৎফর রহমান আমাদের দেশের সমাজ, রাজনীতি অর্থনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ বিশেষ করে নেতৃত্বের মানে যে ব্যক্তি নিজেকে মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়া তার উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি। জীবনে কখনো সঞ্চয় করেননি রোজগারের সকল টাকা পয়সাই তিনি মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন।
নির্বাহী সম্পাদক-জাফর মাতুব্বর, সহ-সম্পাদক-মোঃআমিনুল ইসলাম
Mobile: +8801611-118649, +8801622-356873,
E-mail: newsajsaradin@gmail.com,ajsaradin24@gmail.com
©নকশী হ্যান্ডিক্রাফট বিডি লিমিটেড এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১০৯,গ্রীণ রোড,ফার্মগেইট, ঢাকা-১২০৫ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।